দেখা হয় নাই

পাবলাখালি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:৪৩
জনমানুষের কোলাহল এড়িয়ে যারা একটু নীরবে আর নিভৃতে ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন তাদের জন্যই চমত্কার এক স্থান হতে পারে পাবলাখালি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম জেলা রাঙামাটির প্রায় শেষপ্রান্তে অবস্থিত জীববৈচিত্র্যময় এই অভয়ারণ্যটি তার অবস্থানের কারণেই তুলনামূলক কম পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত হয়। তবে পথের সামান্য কষ্টটুকু মেনে নিয়ে যারা একটিবারের জন্য হলেও পাবলাখালির এই অভয়ারণ্যে এসেছেন তাদের কখনোই খালি হাতে ফিরতে হয়নি। বরং সুউচ্চ পাহাড়ের মাঝে সবুজের সমারোহ আর ফাঁকে ফাঁকে বয়ে চলা হ্রদের সবুজ পানির যুগলবন্দীতে এক অনন্য অভিজ্ঞতাই সঙ্গে করে নিয়ে ফিরেছেন তারা। রাঙামাটি শহর থেকে পাবলাখালির দূরত্ব একশ কিলোমিটারেরও বেশি। এখানে আসার জন্য দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে রাঙামাটি এসে সেখান থেকে মারিস্যাগামী লঞ্চে চড়ে নামতে হবে মাইনীমুখ। তারপর এখান থেকে ইঞ্জিন নৌকায় করে মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে দেখতে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যাবে পাবলাখালির বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে। পাবলাখালি মূলত পাহাড়ি বন এবং এই বনের ভেতর প্রায় হাজার খানেক ফুট উচ্চতার পাহাড়ও রয়েছে। প্রাচীনকাল থেকেই এখানে বহু বন্যপ্রাণীর বসবাস থাকলেও এ সম্পর্কে লিপিবদ্ধ আকারে প্রথম যে তথ্য পাওয়া যায় সেটা ১৯৫৪ সালের এক জরিপের। তখনকার হিসেব অনুযায়ী প্রায় ২,৫৪০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের কাসালং সংরক্ষিত বনাঞ্চলের প্রায় ৪৫০ বর্গকিলোমিটার নিয়ে ছিল পাবলাখালির বিস্তৃতি। কিন্তু কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের ফলে হ্রদের উপচানো জলে বনের বহু এলাকা নিমজ্জিত হলে এ বনের আয়তন পরবর্তী সময়ে কিছুটা সংকুচিত হয়ে পড়ে। বন্যপ্রাণী আর প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের জন্য ১৯৬২ সালের জুন মাসে এটিকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ ছাড়া স্বাধীনতার পরে ১৯৮৩ সালে এটিকে পুনরায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। বর্তমানে এ অভয়ারণ্যটি রাঙামাটি জেলার কাসালং রেঞ্জের দক্ষিণ-পূর্বে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত। নানা সময়ে প্রকৃতি ও পরিবেশের বিপর্যয়ের কারণে পাবলাখালি অভয়ারণ্যের প্রাণীবৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হলেও এখনও এখানে দেখা মেলে বুনো হাতি, বিভিন্ন প্রজাতির বানর, উল্লুক, বুনো কুকুর, বন্য শুকর, সাম্বার হরিণ, বনরুই প্রভৃতির। এ ছাড়া এই অভয়ারণ্যে রয়েছে বহু প্রজাতির পাখি এবং আদি গর্জন, জারুল, চম্বল, সেগুন, কাঞ্চন, চাপালিশের মতো নানা প্রজাতির গাছ।