চট্টগ্রামের বাঁশখালীর পাহাড়ে পরিত্যক্ত ৩টি কূপের লিকেজ দিয়ে নির্গত হচ্ছে গ্যাস। ৫০ বছর পূর্বে তত্কালীন পাকিস্তান সরকারের ওয়েল এন্ড গ্যাস ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশন কর্তৃক ১৯৬০ সালে বাঁশখালীর পাহাড়ে খনন করা ৩টি গ্যাস কূপের বিভিন্ন লিকেজ দিয়ে বর্তমানে দিনরাত কুন্ডলী পাকিয়ে গ্যাস উঠছে।
জানা যায়, বাঁশখালী উপজেলার পৌরসদর জঙ্গল জলদী এলাকায় গহীন অরণ্যে জলদী রেঞ্জ ও লোহাগাড়া চুনতি রেঞ্জের মাঝামাঝি দোচাইল্লা নামক পাহাড়ে তত্কালীন পাকিস্তান সরকার বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাসের সন্ধান পান। ওইসময় ওয়েল এন্ড গ্যাস ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশন কোরিয়া ও রাশিয়ার তেল গ্যাস বিশেষজ্ঞ দলের মাধ্যমে ৫টি কূপ খনন করা হয়। ৫টি কূপের মধ্যে ৩টিতে জরিপ চালান বিশেষজ্ঞ দল। জরিপ চালিয়ে তারা কূপগুলোতে প্রচুর পরিমাণ তেল ও গ্যাসের মজুদ থাকার ব্যাপারে নিশ্চিত হন। বিশেষজ্ঞরা ঐ সময়ে প্রায় ৩শ ব্যারেল অপরিশোধিত তেলও উত্তোলন করতে সক্ষম হন।
তারা তত্কালীন পাকিস্তান সরকারের নিকটও জরিপের রিপোর্ট জমা দেন। হঠাত্ করে অজ্ঞাত কারণে বিদেশি বিশেষজ্ঞ দল খননকৃত প্রতিটি কূপ শিষা ঢালাই করে সীল করে দেয়। বর্তমানে কূপের ঢালাইকৃত অংশ ছাড়াও পাহাড়ের বিভিন্ন ফাটলে কুন্ডলী পাকিয়ে গ্যাস উঠছে। বাপেক্সের ভূ-তত্ত্ব বিভাগের ব্যবস্থাপক আলমগীর হোসেন বাঁশখালীর জলদী পাহাড়ে অবস্থিত তিনটি গ্যাস কূপের খননের বিষয় নিশ্চিত করেন এ প্রতিনিধিকে। সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বাঁশখালীর সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলমগীর কবির চৌধুরী, বাঁশখালীর জলদী পাহাড়ে বিপুল পরিমাণ তেল গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করে তেল ও গ্যাস কূপগুলোতে পুনরায় জরিপ চালানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। ৫০ বছর পূর্বে চালানো জরিপের পর থেকে অদ্যাবধি ওই এলাকা থেকে তেল ও গ্যাস উত্তোলনের কোন কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এদিকে তিনটি কূপ থেকে নির্গত গ্যাসের বুদবুদ দেখতে প্রতিদিন সেখানে ভিড় করছে মানুষ।
