গেল নভেম্বরে আমদানি ঋণ পত্র (এলসি) খোলার পরিমাণ বেড়েছে। তবে আগের খোলা এলসি নিষ্পত্তির হার কমে গেছে। চলতি অর্থবছরের নভেম্বরে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানিতে ঋণপত্র নিষ্পত্তি ১৪ শতাংশ কমেছে। গত মাসে খাদ্যপণ্যসহ শিল্পখাতে ব্যবহারযোগ্য কাঁচামাল, গার্মেন্ট শিল্পের জন্য কাঁচা সুতা, ইয়ার্ন-ফেব্রিক্স ও এক্সেসরিজ আমদানি উল্লেখযোগ্যহারে কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এ তথ্য পাওয়া গেছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, নভেম্বর মাসে পণ্য আমদানির জন্য ২৭৮ কোটি ৮৯ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। যা গত অর্থবছরের একই মাসে খোলা হয়েছিল ২৪৭ কোটি ৩৬ লাখ ডলারের এলসি। সে অনুযায়ী আমদানিতে ঋণপত্র খোলার পরিমাণ বেড়েছে ১২ দশমিক ৭৪ শতাংশ। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের নভেম্বরে ২৬৬ কোটি ৪২ লাখ মার্কিন ডলারের এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে। আর ২০১১-১২ অর্থবছরের নভেম্বরে নিষ্পত্তি হয় ৩০৯ কোটি ১৭ লাখ ডলারের এলসি। অর্থাত্ গত নভেম্বর মাসে আগের অর্থবছরের নভেম্বরের তুলনায় ১৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ আমদানি কমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগের হিসাবে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের অক্টোবর মাসে এলসি খোলা হয়েছিল ২৫৮ কোটি ৬৪ লাখ ডলারের। তবে ২০১০-১১ অর্থবছরের নভেম্বর মাসে ৩৬৪ কোটি ৩৬ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়েছিল। সে হিসেবে এলসি খোলার হার কমেছে ২৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। আর চলতি অর্থবছরের অক্টোবর মাসে ঋণপত্র নিষ্পত্তি হয়েছিল ২৬১ কোটি ৫৩ লাখ ডলারের। শিল্পোদ্যোক্তারা বলছেন, নতুন শিল্পকারখানার জন্য বিদ্যুত্ ও গ্যাসের সংযোগ না পাওয়ায় উত্পাদন বাড়ছে না। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যে অনেকটা স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় আমদানিতে কমে যাচ্ছে। আবার ব্যাংক ঋণে উচ্চসুদের কারণে অনেক ব্যবসায়ী আমদানিতে ঋণপত্র খুলতেও ভয় পাচ্ছে। এছাড়া এলসি খোলার ব্যাপারে গ্রাহকদের সহায়তা করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সুস্পষ্ট নির্দেশনা সত্ত্বেও এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো যথেষ্ট অনীহা দেখানোর কারণে শিল্পোদ্যোক্তারা চরম বিপাকে রয়েছে বলে তারা মনে করেন। এলসি নিষ্পত্তির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের জোর তদারকির কারণে এলসি খোলার পরিমাণ বাড়ছে। আর পরিমাণ বাড়ার কারণে আগামীতে এলসি নিষ্পত্তিও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের সিংহভাগ ইউরোপিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে হয়ে থাকে। আর এসব দেশের অর্থনৈতিক দুরাবস্থা ও ঋণ সঙ্কটের কারণে বাংলাদেশের বাণিজ্যেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত নভেম্বরে অধিকাংশ খাদ্যপণ্য আমদানি কমলেও চিনি ও ভোজ্যতেল আমদানি বেড়েছে। এসময়ে ফেব্রিক্স, এক্সেসরিজ ও ইয়ার্ন আমদানিতে ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্র নিষ্পত্তি হয়েছে ৪৬ কোটি ৮২ লাখ ডলার, কেমিক্যাল প্রোডাক্টস আমদানি হয়েছে ২০ কোটি ২৬ লাখ ডলার। ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানি হয়েছে ১৬ কোটি ৯৭ লাখ ডলার, জ্বালানি আমদানি হয়েছে ৩৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার এবং পেপার আমদানি হয়েছে দুই কোটি ৩৫ লাখ ডলার। জানা গেছে, চলতি বাজেটে সব ধরনের বিলাসবহুল পণ্য এবং দেশে উত্পাদন করে যেসব খাদ্য পণ্যের চাহিদা মেটানো সম্ভব সেসব পণ্যের আমদানির উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে সরকার। আর এর ফলে আমদানি অনেকটা কমেছে। আর আমদানি কমে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে গেছে। গত মঙ্গলবার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল এক হাজার ২৪০ কোটি ডলার। অন্যদিকে শিল্পে ব্যবহূত কাঁচামাল আমদানি বাড়ানোর জন্য কেন্দ্রিয় ব্যাংক চেষ্টা করছে এজন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
