ভারত সীমান্তবর্তী জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা আগাইর গ্রাম। আর এই গ্রামেই ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ এর ড্রিলিং কার্যক্রম চালিয়ে মাটির নিচে পাওয়া গেছে উন্নতমানের ‘লাইমস্টোন’ অর্থাত্ ‘চুনাপাথর’ এবং ‘হোয়াইট ক্লে’ বা ‘সাদামাটি’। অতি সম্প্রতি খনন শেষে ১ হাজার ৪৯৪ ফুট থেকে ১ হাজার ৫৩০ ফুট পর্যন্ত অর্থাত্ ৩৬ ফুট পুরু চুনাপাথরের স্তর পাওয়া গেছে। এরপর ১,৫৩০, থেকে ১,৭০০ ফুট পর্যন্ত রয়েছে শেল, ক্লে ও স্যান্ডস্টোনের স্তর। ১,৭০০ থেকে ১,৭৬০ ফুট পর্যন্ত প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে পাওয়া গেছে সাদামাটি বা হোয়াইট ক্লে। যা সিরামিক পণ্য ও টাইল্স তৈরিতে ব্যবহূত হয়। আর ১,৭৬০ ফুট থেকে ১,৭৯০ ফুট পর্যন্ত ওয়েদার জোন। এই ওয়েদার জোনের পর অর্থ্যাত্ ১,৭৯০ থেকে ১,৮১৫ ফুট পর্যন্ত আদি শিলার স্তর। সাধারণত আদি শিলার স্তরের পর অন্য কোন খনিজ পদার্থের সন্ধান মেলে না। তাই ওই কূপের খনন আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। খনিজ সম্পদ উন্নয়নে ভূ-বৈজ্ঞানিক কার্যক্রমের আওতায় ২০১১ সালের জুলাই থেকে ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদে এ কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ কর্মসূচীর জন্য মোট ৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। চুনাপাথর ও সাদামাটির প্রকৃত মজুদ নির্ধারণের জন্য আরো চারটি কূপ খনন করা হবে। ওই কূপ খনন শেষেই সম্ভাব্যতা যাচাই করে জানা যাবে এখান থেকে চুনাপাথর ও সাদামাটি উত্তোলন আর্থিকভাবে লাভজনক হবে কিনা।
প্রথম দফায় খনিজ সম্পদের সম্ভাব্যতা পাওয়া যায়। চূড়ান্ত অনুসন্ধানের জন্য গ্রামের ৪০ শতাংশ জায়গা লিজ নিয়ে গত ১৬ মার্চ কূপ খনন প্রক্রিয়া শুরু হয়। ৯ জন প্রকৌশলীসহ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের ২৯ সদস্যের ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ দল গত ২ এপ্রিল অনুন্ধান শুরু করে। বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বিদেশি কোন বিশেষজ্ঞ বা ভূ-তাত্ত্বিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা ছাড়াই সম্পূর্ণ দেশিয় প্রযুক্তিতে এ কার্যক্রম শুরু হয়। ড্রিলিং চলাকালে মাটির নিচ থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থের বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় ভূ-তাত্ত্বিক অধিদপ্তরে পাঠানো হয়। সেখানে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নমুনা বিশ্লেষণের পরে সংগৃহীত খনিজ পদার্থগুলো ‘উন্নতমানের চুনাপাথর’ বলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন ভূ-তাত্ত্বিক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মনিরা আক্তার চৌধুরী। তার ভাষ্যমতে, চুনাপাথরের মজুদ রয়েছে প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে। ১২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ৮ কিলোমিটার প্রস্থের একটি বেসিনে এ পাথর রয়েছে। এই বেসিনের কেন্দ্রে পাথরের পুরুত্ব অনেক বেশি হলেও চারপাশে পুরুত্ব কম থাকতে পারে। যদি এখানে বড় ধরনের মজুদ পাওয়া যায়, তবে পাঁচবিবির চুনাপাথর থেকেই দেশে সিমেন্ট তৈরির কাঁচামালের চাহিদার পুরোটাই এই খনি থেকেই মেটানো সম্ভব হবে এবং সেটা দেশের অর্থনীতির চাকাকে বেগবান করবে।
