চাকরি হারাচ্ছেন চসিকের ৫৯০ কর্মকর্তা কর্মচারী

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১৮
এডিবি’র অর্থায়নে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত নগর স্বাস্থ্য কেন্দ ও মাতৃসদন হাসপাতালের ৫৯০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারাতে যাচ্ছেন। তৃতীয় মেয়াদে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) তৃতীয় মেয়াদের অর্থায়নে অনুমোদন এখনও না পাওয়ায় এই অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ২০০১ সাল থেকে এ প্রকল্পটি নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে চালু হলে নগরীর জনসাধারণ ব্যাপক স্বাস্থ্য সুবিধা পেতে শুরু করে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র-১ ইত্তেফাককে জানান, সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ তৃতীয় মেয়াদে প্রকল্পটি সক্রিয় রাখতে গত ৩/৪ মাস আগে এডিবি কর্তৃক সংবাদপত্রে প্রচারিত দরপত্রের মাধ্যমে আবেদন করেছিল। এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে এডিবির পক্ষ থেকে সাড়া মেলেনি। তবে কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য ঢাকায় এডিবি কার্যালয়ে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এদিকে, নগর স্বাস্থ্য কেন্দ কর্মকর্তা/কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের পক্ষ থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার জানানো হয়, ২০০১ সাল থেকে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে এডিবির প্রকল্পাধীনে স্থাপিত নগর স্বাস্থ্য কেন্দ ও নগর মাতৃসদন সমূহের মাধ্যমে নগরীর লাখ লাখ জনসাধারণ মাত্র ২০ টাকা ফি’র বিনিময়ে ওষুধসহ স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে আসছে। গত এক যুগ ধরে এ সেবার পরিধিতে নগরীর প্রান্তিক দরিদ্র জনসাধারণের মধ্যে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সৃষ্টি হয়েছিল বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। প্রকল্পের দ্বিতীয় মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমনি নগরীর জনসাধারণের স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়তে যাচ্ছে, অন্যদিকে এ প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত ৫৯০ জন কর্মকর্তা কর্মচারীও পড়েছেন চাকরি হারানোর আশঙ্কার মধ্যে। তারা জানান, ইতোমধ্যে এডিবি কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে প্রকল্পের মেয়াদ তৃতীয় মেয়াদে না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মৌখিকভাবে জানিয়ে দেয়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে। গত ৪ মাস ধরে এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন ভাতাও বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় প্রকল্পটির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবা পুন:চালুর বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের সর্বাত্মক উদ্যোগ কামনা করেছেন নগরবাসী। প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে গেলে চট্টগ্রাম মহানগরীতে স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রে আবার শুরু হবে এক অন্ধকার সময়। যেখানে টাকার অভাবে অসংখ্য দরিদ্র নগরবাসী ও প্রসূতি চিকিত্সা না পেয়ে মৃত্যু ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।