জামালখান নামেই ‘হেলদি ওয়ার্ড’। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ২১নং এই ওয়ার্ডটি ‘হেলদি ওয়ার্ড’ ঘোষণা করা হলেও নেই আলাদা কোন বরাদ্দ। নেই হেলদি ওয়ার্ডের কোন কার্যক্রম। নাগরিক সেবারও কোন বালাই নেই। পথে পথে জনদুর্ভোগ। ফুটপাত ও রাস্তায় ভাসমান দোকান, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনার স্তূপ ও নিত্যযানজটে নাগরিকদের চরম জনদুর্ভোগ পোহাতে হয়। নগরীর অন্যান্য এলাকার মতো এই ওয়ার্ডবাসীরা বিদ্যুত্, পানি, চিকিত্সাসহ নাগরিক থেকে সুবিধা বঞ্চিত। হেলদি ওয়ার্ড হিসাবেও বাড়তি কোন সুবিধা পাচ্ছে না জামালখানবাসী।
১৯৯৪ সালে জামালখানকে ‘হেলদি ওয়ার্ড’ ঘোষণা করা হয়। ওয়ার্ডের তত্কালীন কমিশনার এডভোকেট এমএ নাছের ইত্তেফাককে বলেন, এলাকার সমস্যা সমাধানে এলাকাবাসীর মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা ও উন্নয়ন কাজে সম্পৃক্ত করা হেলদি ওয়ার্ডের উদ্দেশ্য। এছাড়াও নগরীর বাকি ওয়ার্ডগুলো সমস্যা সমাধানে যেন হেলদি ওয়ার্ডকে অনুসরণ করে। তবে হেলদি ওয়ার্ডের সুবিধা তো দূরের কথা, ন্যূনতম নাগরিক সেবাও পাচ্ছে না জামালখানবাসী।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান কার্যালয় জামালখান ওয়ার্ডে অবস্থিত। এটাকে নগরীর প্রাণকেন্দ্র বলা হয়। এক সময় খ্যাতনামা চিকিত্সকদের চেম্বারের কারণে এ এলাকার ব্যাপক পরিচিতি ছিল। তবে এখন এই এলাকা বাণিজ্যিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভরে গেছে। জনবসতিও কয়েকগুণ বেড়েছে। এলাকায় নাগরিক সেবা বাড়াতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সিটি করপোরেশনের আলাদা কোন তদারকি নেই। একাধিক এলাকাবাসী জানান, নালাগুলো ময়লা ও বালি জমে ভরাট হয়ে গেছে। বর্ষাকালে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বিদ্যুত্ ও পানি সংকটে জনজীবন অতিষ্ঠ। অলি-গলিগুলোতে ময়লা আবর্জনার স্তূপ পড়ে থাকলে যথাসময়ে সরানো হয় না। মশার উপদ্রবে দিনের বেলাতেও টেকা দায়। জামালখান ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিজয় কুমার চৌধুরী কৃষাণ ইত্তেফাককে বলেন, স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে যে এনজিও কার্যক্রম ছিল তা আপাতত হচ্ছে না। লোকবল সংকটে সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। হেলদি ওয়ার্ড হিসাবে আলাদা কোন বরাদ্দ নেই। মোমিন রোডে অপরিকল্পিতভাবে জেলা প্রশাসন বিভিন্ন বাণিজ্যিক দোকান বরাদ্দ দেয়ায় ফুটপাত দিয়ে পথচারীরা চলাচল করতে পারছে না। করপোরেশনের পক্ষে যতটুকু সম্ভব নাগরিক সেবা দেয়া হচ্ছে।
‘হেলডি ওয়ার্ড’ জামালখান প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এম মনজুর আলম ইত্তেফাককে বলেন, জামালখান আমাদের স্বাগতিক ওয়ার্ড হিসেবে নাগরিক সেবাকে প্রাধান্য দেয়া হয়। এখানে ফুটপাতে মাছের বাজার, অবৈধ দোকান নিয়ে এলাকাবাসী আমাকে অভিযোগ করেছেন। এগুলো অনেকবার অপসারণও করেছি। এসব বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে নগরবাসীরও দায়িত্ব রয়েছে। করপোরেশনের পক্ষে কোন ঘাটতি থাকলে আমরা সচেতন হবো এবং সার্বিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
