জাজিরায় ইউপি নির্বাচন

ফলাফলের দাবিতে নির্বাচন কার্যালয় ভাংচুর গুলি-ককটেলে আহত ৫০

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:২১
বুধবার জাজিরা উপজেলার ৩টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলাফল ঘোষণার দাবিতে চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকরা রাত ৯টায় উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৫০ রাউন্ড শটগানের ফাঁকা গুলি ছুঁড়েছে। বড়কান্দি ইউনিয়নের ২টি ভোট কেন্দ্রের ব্যালট পেপার, ভোট বাক্স ও নির্বাচন কাজে ব্যবহূত জিনিসপত্র উত্তেজিত জনতা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পুলিশ এসব উদ্ধার করতে না পারায় বড়কান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীর ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় ও থানাসূত্র জানায়, জাজিরা উপজেলার বড়কান্দি, মুলনাও জাজিরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে বুধবার। বড়কান্দি ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের চরখাগুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে সদস্য প্রার্থী হারুন হাওলাদারের সমর্থকরা ব্যালট পেপার ও বাক্স ছিনিয়ে নেয়। ৪ নং ওয়ার্ডের মনাই ছৈয়াল কান্দি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষে সদস্য প্রার্থী নূর হোসেন দর্জির সমর্থকরা ব্যালট পেপার ও ভোট বাক্স ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নজরুল ইসলামকে মারধর করা হয়। রাত ৯টার দিকে চেয়ারম্যান প্রার্থী সিরাজ সরদার ও অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী আলী আশ্রাফ মালের সমর্থকরা ভোটের ফলাফল ঘোষণার দাবিতে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় ঘেরাও করে। উত্তেজিত জনতা কার্যালয়ে ভাংচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। হামলাকারীরা এ সময় কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। পুলিশের শটগানের গুলি ও ককটেলের আঘাতে কমপক্ষে ৫০ ব্যক্তি আহত হয়েছে। এ ঘটনায় জাজিরা থানায় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হারুন-অর-রশীদ, প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ও শরীফ মোহাম্মদ ফয়সাল বাদী হয়ে ৩টি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় দেড় হাজার অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জাজিরা উপজেলা সদর থেকে সন্দেহভাজন ১১ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। ছিনতাই হওয়া ব্যালট পেপার ও বাক্স পুলিশ এখনো উদ্ধার করতে পারেনি। বড়কান্দি ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী সিরাজ সরদার বলেন, আমার বিজয় নিশ্চিত জেনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আলী আশ্রাফ মালের সমর্থকরা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে হামলা করেছে। এ ঘটনায় আমার কয়েকজন সমর্থক আহত হয়েছে। অন্যদিকে আলী আশ্রাফ মাল বলেন, আমার বিজয় ছিনিয়ে নেয়ার জন্য ও জনগণের রায় ঘুরিয়ে দেয়ার জন্য সিরাজ সরদারের সমর্থকরা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে হামলা করে।