যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে ‘বিভ্রান্তিকর প্রচারের’ জবাবে নিজ অবস্থান ব্যাখ্যা করবে সরকার। আগামী ২৬ ডিসেম্বর সাংবাদিক সম্মেলন করে এ অবস্থান তুলে ধরা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান আইনমন্ত্রী ব্যারিষ্টার শফিক আহমেদ ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। বৈঠকে আইন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম , অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল এডভোকেট এম কে রহমান উপস্থিত ছিলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে বাইরে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেয়া হচ্ছে। আমরা ২৬ ডিসেম্বর সরকারের অবস্থান তুলে ধরব। জনগণ যেন এ নিয়ে বিভ্রান্তিতে না পড়ে, সেজন্য বিষয়টি পরিষ্কার করা হবে। তিনি বলেন, জামায়াতসহ বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনাল নিয়ে যেসব বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে ও ষড়যন্ত্র চলছে, সে বিষয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করা হবে। আইনের শাসনের জন্যই এটা করা হবে। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের রায় কবে হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, রায় যথা সময়ে হবে। একটি বিচারাধীন প্রক্রিয়া ও এর রায় নিয়ে এখন কথা বলা সমীচীন হবে না। যাদের বিচার হচ্ছে, তারা সবাই মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত।
আইনমন্ত্রী বলেন, ৪০ বছর পরে হলেও বাংলাদেশ স্বীকৃত ও সম্পৃক্ত এ ধরনের অপরাধীদের বিচার করছে। জনগণ যাতে ধারণা পেতে পারে, এ বিচারে কোনো বিভ্রান্তি নেই, সেজন্য অভিযুক্তদের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে। তারা সাফাই সাক্ষী ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিয়ে আপিল করতে পারবে। যার নজীর পৃথিবীর কোনো দেশে নেই। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিটি) প্রসিকিউশনে (আইন সহায়তাকারী) কোনো পরিবর্তন হবে কি না জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রসিকিউশন ‘সুন্দরভাবেই’ তাদের কাজ চালাচ্ছে। তাই এ মুহূর্তে পরিবর্তনের কোনো চিন্তা নেই।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, যারা যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে চায়, তারাই এর বিচার প্রক্রিয়া এবং রায় নিয়ে নানা গুজব ছড়াচ্ছে। এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে বিচার করা হবে। পত্রিকা, দল বা গোষ্ঠী, যেই এতে জড়িত থাক, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
প্রসঙ্গত যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক ও প্রবাসী এক আইনজীবী ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের স্কাইপি সংলাপ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ঐ প্রতিবেদন প্রকাশের পর সমালোচনার মুখে গত ১১ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে বিচারপতি নিজামুল হক।
