বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার তিনি। বাংলাদেশের এক নম্বর খেলোয়াড়। এই বিপিএলেও প্রথম আসরের সেরা খেলোয়াড় তিনি। আরো একবার ‘এক নম্বর’ হয়ে দেখালেন সাকিব আল হাসান। এবার বিপিএল দ্বিতীয় আসরের নিলামেও এক নম্বর বাংলাদেশের এই স্পিনিং অলরাউন্ডার।
খুলনা রয়েল বেঙ্গল, চিটাগাং কিংস, ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস, রংপুর রাইডার্স, বরিশাল বার্নার্স ও দুরন্ত রাজশাহী- সাত ফ্রাঞ্চাইজিদের মধ্যে ছয় ফ্রাঞ্চাইজির পছন্দ সাকিব আল হাসানকে। ব্যতিক্রম ছিল সিলেট রয়েলস, কিন্তু দাম হাঁকানোয় তারাও পিছিয়ে ছিলো না। যদিও দেশি খেলোয়াড়দের বেধে দেয়া সর্বোচ্চ দাম ৭০ হাজার ডলার হাঁকায়নি তারা। তবে বাকি পাঁচ ফ্রাঞ্চাইজি সর্বোচ্চ দাম ছুঁয়েই সাকিবের আকর্ষণটা সাকিব আল হাসান
জন্ম :২৪ মার্চ, ১৯৮৭। জন্মস্থান :মাগুরা, খুলনা। বয়স :২৫ বছর ২৭২ দিন
মূল দল :বাংলাদেশ, খুলনা, কোলকাতা নাইট রাইডার্স, উরচেস্টারশায়ার
খেলোয়াড়ি ধরন :অলরাউন্ডার। ব্যাটিং :বাঁ হাতি
বোলিং :বাঁহাতি স্পিনার। টেস্ট অলরাউন্ডার র্যাংকিং :২
ওয়ানডে অলরাউন্ডার র্যাংকিং :১
টেস্ট পারফরম্যান্স :২৪ ম্যাচ, ১৮৩৫ রান, ১০২ উইকেট
ওয়ানডে পারফরম্যান্স :১২৬ ম্যাচ, ৩৬৩৫ রান, ১৬০ উইকেট
আরো বাড়িয়ে দিয়েছিল। একটু আগে শহিদ আফ্রিদি (২ লাখ ৭৫ হাজার ডলার) ও ইমরান নাজিরের (২ লাখ ৮০ হাজার ডলার) দর বিস্মিত করেছে প্রত্যেককে। বিস্ময়ের ঘোর কাটতে না কাটতে সাকিবকে সর্বোচ্চ দর হাঁকিয়ে নিলামের সবচেয়ে বড় চমকটি দেখায় ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস। গোপন খামে সবার থেকে নিজেদের আলাদা করে রাখলো তারা। তারা সর্বোচ্চ দাম হাঁকিয়েছে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ডলার। তাদের ধারকাছেও কেউ দাম দেয়নি। ২ লাখ ১৩ হাজার দাম দিয়ে যদিও সাকিবকে নেয়ার স্বপ্ন দেখেছিল দুরন্ত রাজশাহী। বাকি চার ফ্রাঞ্চাইজিদের মধ্যে রংপুর রাইডার্স দিয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ডলার, চিটাগাং কিংস ১ লাখ ৭৫ হাজার ডলার, বরিশাল বার্নার্স দাম দিয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ডলার এবং খুলনা রয়েল বেঙ্গল দাম দিয়েছিল মাত্র ৯০ হাজার ডলার।
গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় একটি হোটেলে দ্বিতীয় বিপিএলের নিলামে প্রথমে গোল্ডেন বিদেশিদের দিয়ে শুরু করা হয় অনুষ্ঠান। এরপর দেশীয় গোল্ডেন বয়দের বিক্রি শুরু করা হয়। বিপিএলের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ফ্রাঞ্চাইজি ১০ জন দেশি ও ১০ জন বিদেশি খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্ত করতে পেরেছে এবং প্রতিটি ফ্রাঞ্চাইজি ১৫ লাখ ডলারের বেশি অর্থ দিয়ে খেলোয়াড় কিনতে পারেনি। দেশি ১১৪ ও বিদেশি ১৪৭ জন খেলোয়াড়ের নিলাম অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) প্রথম আসরেও সাকিবের এত দাম উঠেনি। খুলনার আইকন খেলোয়াড় হওয়ায় তার দামও বেধে দেয়া হয়। ২ লাখ ডলার ছিল আইকন খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ দাম। তবে নাসির হোসেনের ২ লাখ ৫ হাজার ডলার দাম ওঠায় সাকিব শেষ পর্যন্ত খুলনা থেকে পেয়েছেন ২ লাখ ১০ হাজার ডলার।
২০১০ সালে বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার হওয়া সত্ত্বেও ভারতীয় প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে (আইপিএল) সাকিব অবিক্রিত ছিলেন। তবে গত বছর কলকাতা নাইটরাইডার্স সাড়ে চার হাজার ডলারে তাকে কিনে নেয়। আইপিএলের তুলনায় বেশি দাম না পেলেও বিপিএলের খেলোয়াড়দের নিলামে সর্বোচ্চ দাম তার। সাকিবকে পেয়ে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের চেয়ারম্যান সেলিম চৌধুরী উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলেন, ‘গত বছরের মতো আমরা এবারো চ্যাম্পিয়নের জন্য দল করেছি। আমাদের দলটি অনেক ব্যালেন্স একটি দল। সাকিবকে পেয়ে আমরা খুশি’।
দেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে সাকিব শীর্ষে তবে তার কাছেই রয়েছেন নাসির হোসেন। গত বার ২ লাখ ৫ হাজার ডলার পেয়েছিলেন। এবার সেই রেকর্ডও ভেঙ্গেছেন তিনি। সাকিবের পরেই তার অবস্থান। রংপুর রাইডার্স তাকে কিনেছে দুই লাখ ৮ হাজার ডলার দিয়ে। আর জাতীয় দলের মুশফিকুর রহিম সিলেট রয়েলস থেকে পেয়েছেন ২ লাখ ৫ হাজার ডলার। অন্যদিকে তারকা ওপেনার তামিম ইকবাল পেয়েছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ডলার। দুরন্ত রাজশাহী কিনেছে তাকে।
টেস্টে বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডারের খেতাবটি সাকিবের অনেক দিন ছিল। সম্প্রতি জ্যাক ক্যালিস তাকে পেছনে ফেললেও তার সাথে সাকিবের ব্যবধান মাত্র দুই পয়েন্টের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হোম সিরিজে টেস্ট সিরিজ খেললেও ইনজুরির কারণে ওয়ানডে সিরিজ খেলেননি। আগামী বছর ১৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া বিপিএলের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত তিনি।
