বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের কোনো ব্যর্থতা বা অবহেলা রয়েছে কিনা— তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে মহানগর পুলিশ প্রশাসন গতকাল বৃহস্পতিবার এই কমিটি গঠন করে। গত ৯ ডিসেম্বর বিরোধী জোটের অবরোধ চলাকালে পুরনো ঢাকায় বোমা হামলাকারী সন্দেহে বিশ্বজিেক পিটিয়ে ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এদিকে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে আরো ৪ ছাত্রকে বহিষ্কার করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
কমিটি গঠনের সত্যতা স্বীকার করে মহানগর পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদ বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে পুলিশের কোনো ধরনের ব্যর্থতা ও অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযোগ উঠেছে, বিশ্বজিেক হত্যা করার সময় সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন। ওই সময় পুলিশ এগিয়ে এলে হয়তো বিশ্বজিেক রক্ষা করা সম্ভব হতো—এমন কথা বলেছেন তার পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীরা। রিকশা চালক রতন বিশ্বজিেক সংজ্ঞাহীন অবস্থায় মিটফোর্ড হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। এসময় ২৬ মিনিট সে জীবিত ছিল। হাসপাতালে দ্রুত চিকিত্সা দেয়ার ক্ষেত্রেও অবহেলা হয়েছে বলে বিশ্বজিতের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া বিশ্বজিতের মরদেহের ময়নাতদন্ত ও সুরতহাল রিপোর্ট নিয়েও জটিলতা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘাতকরা শেষ পর্যন্ত আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে লঘুদণ্ড পেয়ে বের হয়ে যায় কি না— এমন আশঙ্কাও করছেন দেশের খ্যাতনামা ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, চিকিত্সক ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
এদিকে যে চার ছাত্রকে গতকাল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহিষ্কার করেছে, তারা হলেন : মনোবিজ্ঞান বিভাগের ২০০৭-০৮ শিক্ষা বর্ষের মো. কাইয়ুম মিয়া টিপু, রসায়ন বিভাগের ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষের রাজন তালুকদার, ইতিহাস বিভাগের ২০০৬-০৭ শিক্ষা বর্ষের মো. সাইফুল ইসলাম ও জিএম রাশেদুজ্জামান শাওন। এদের মধ্যে টিপু, সাইফুল ও শাওন ডিবি পুলিশ হেফাজতে এবং রাজন তালুকদার পলাতক রয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া রফিকুল ইসলাম শাকিল, মাহফুজুর রহমান নাহিদ ও এইচএম কিবরিয়াকে ৮ দিনের রিমান্ডে নিয়ে ডিবির কর্মকর্তারা ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করছেন বলে জানা গেছে।
