হারিয়ে যাচ্ছে ধানের গোলা

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৫২
নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরের গ্রামাঞ্চলে এখন আর আগের মতো চোখে পড়ে না ‘ডোল’ বা ‘মাচা’ যা স্থানীয়রা ধানের গোলা বলে জানে। ধান মাড়াইয়ের পর গোটা বছরের জন্য সংরক্ষিত রাখার যে ‘ডোল’ বা ‘মাচা’ আজ তা হারিয়ে যেতে বসেছে। যুগের হাওয়া পাল্টেছে, পাল্টেছে সারা বছরের জন্য ধান রাখার ধরন। দু’চারজন বড় গৃহস্থ ছাড়া ছোটো-খাটো কৃষকরা এখন আর সেভাবে ধান মজুদ রাখতে পারেন না। আর ৫-১০ বছর পর হয়তবা নতুন প্রজম্মের ছেলে-মেয়েরা হঠাত্ দেখে ধানের ডোল বা মাচা চিনতেই পারবে না। বাঁশ দিয়ে তৈরি ধানের গোলার গৃহস্থরা সারাবছর ধান সংরক্ষণ করতেন। যা ছিল গ্রাম-বাংলার প্রধান বৈশিষ্ট্য। কিন্তু কালক্রমে তা আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। ধানের মওসুমে ধান কেটে মাড়াই করে করা হতো গোলাজাত। এমন এক সময় ছিল যখন গোলাভরা ধান না থাকলে সেই বাড়িতে ছেলে-মেয়েদের বিয়েই দিতেন না। এমন কথাও শোনা যায়, চোর-ডাকাতের ভয়ে অনেক গৃহস্থ গোলার ধানের মধ্যে টাকা- পয়সা এমনকি স্বর্ণালঙ্কার পর্যন্ত সংরক্ষণ করতেন। এসব ধানের মাচায় ২০ থেকে ১শ’ মণ পর্যন্ত ধান মজুদ রাখা যায়। হাট-বাজারেও বিভিন্ন প্রকারের ডোল, গোলা বা মাচা কেনাবেচা হয়ে থাকে।