পর্যটন মৌসুমের শেষ দিকে অবশেষে কক্সবাজারে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠেছে সমুদ্র সৈকত, বিপণীকেন্দ্র, রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন পর্যটন স্পট। দীর্ঘদিনের মন্দা সময় শেষে কক্সবাজারে পর্যটকরা আসতে শুরু করায় হোটেল-রেস্তোরাঁ ও দোকান মালিকসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মুখে ফুটেছে প্রশান্তির হাসি। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, হোটেল-মোটেল জোন ও বিপণীকেন্দ্রসমূহ সরেজমিনে গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেছে সর্বত্র পর্যটকদের কোলাহল।
বেড়াতে আসা পর্যটকরা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, হিমছড়ি ঝর্ণা, দরিয়ানগর পর্যটন কেন্দ্র, ইনানী পাথুরে সৈকত, বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক, মেদাকচ্ছপিয়া ন্যাশনাল পার্ক, আদিনাথ মন্দির, সেন্টমার্টিন, অগ্গ মেধা ক্যাং, মোগল আমলের মসজিদসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ইতিমধ্যে এত পর্যটক আসায় হোটেলে থাকার কোন জায়গা নেই। রেস্তোরাঁগুলোতে লাইন ধরে খাবার সংগ্রহ করতে হচ্ছে। ঈদের পরে গতকাল ছুটির দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যটক এসেছেন বলে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান ।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, দীর্ঘদিন পর পুরনো চেহারায় ফিরেছে কক্সবাজার। ইতিমধ্যে শহরের ৩ শতাধিক হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউস ও কটেজের প্রায় ৯৫ ভাগ কক্ষই পর্যটকে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অফ কক্সবাজারের সভাপতি এসএম কিবরিয়া খান বলেন, পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বীচপার্ক মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুল্লাহ হাবিব বলেন, গত সেপ্টেম্বর মাসে রামুর ঘটনার পর কক্সবাজারে পর্যটকের আনাগোনা একেবারেই কমে যায়। কিন্তু মৌসুমের শেষ দিকে মন্দা অবস্থা কেটে গেছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রবি লাইফ গার্ডের ইনচার্জ ছৈয়দ নূর বলেন, সৈকতে সূর্যাস্ত উপভোগ করতে গতকাল হাজার হাজার পর্যটক ভিড় জমিয়েছেন। এ সময় অনেকেই গান গেয়ে, হাঁটাহাঁটি করে, সমুদ্রে গোসল করে কিংবা সৈকতের বালুচরে চরে বসে গল্পগুজব করে সময় কাটাচ্ছেন। ভ্রমণকারীদের মধ্যে সব বয়সের লোক থাকলেও অধিকাংশই বয়সে তরুণ। এখন পর্যন্ত সৈকতে কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি। টেকনাফ-সেন্টমার্টিন জলপথে চলাচলকারী পর্যটকবাহী জাহাজ কেয়ারি সিন্দবাদ ও কেয়ারি ডাইনের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের সহকারী মহাব্যবস্থাপক এসএম আবু নোমান বলেন, গতকাল সেন্টমার্টিনগামী জাহাজগুলো সামর্থ্য অনুযায়ী যাত্রী নিয়ে যায়। আজও একই অবস্থা হবে বলে আশা করি।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার বলেন, কক্সবাজারে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এজন্য অতিরিক্ত ফোর্সও মোতায়েন করা হয়েছে।
সিলেট থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটক দম্পতি নূরজাহান চৌধুরী ও আব্দুল খালেক চৌধুরী এবং ঢাকা মিরপুরের তানিয়া শারমীন জারা ও ইকবাল মাহমুদ জানান, দীর্ঘদিন পর তারা কক্সবাজারে বেড়াতে এসে বেশ ভাল সময় কাটাচ্ছেন। তবে কক্সবাজারে বিনোদনের জন্য আরো অনেক কিছু থাকা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
