প্রথম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় নগরজুড়ে উত্সবের আমেজ বিরাজ করছে। এ বিজয়কে অপশক্তির বিরুদ্ধে বিজয় হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন নতুন মেয়র। এদিকে জাতীয় পার্টির এ দুর্গে আওয়ামী লীগ নেতার এ জয়ে স্থানীয় জাপা নেতাকর্মীরা দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও এরশাদকেই দুষছেন। তারা বলছেন, জাতীয় পার্টি (এ) চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের অদূরদর্শিতার কারণেই জাতীয় পার্টির এ দুর্গটিতে বড় একটি আঘাত আসলো। রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির দুর্গ ভেঙ্গে চুরমার হয়েছে। এর প্রভাব পড়বে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। তবে সাধারণ ভোটারা রংপুরের প্রথম মেয়র পেয়ে বেশ উল্লসিত। তাদের একটাই দাবি নগরীতে গ্যাস সংযোগ।
সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অনেক নাটকীয়তার পর ভোটের মাত্র একদিন আগে জাপার বহিষ্কৃত নেতা সাবেক পৌর মেয়র একেএম আবদুর রউফ মানিককে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দোয়া, আশীর্বাদ ও সমর্থন দিয়েছেন বলে প্রচার করা হয়। কিন্তু তার (এরশাদ) এসব কিছুই কাজে লাগেনি।
রংপুর জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, দলীয় কোন্দল, বহিষ্কার আর গ্রুপিংয়ের কারণে এ ভরাডুবি হয়েছে। তিনি বলেন, রংপুর হচ্ছে জাতীয় পার্টির ঘাঁটি। গত সংসদ নির্বাচনে রংপুরে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আড়াই লাখ ভোট পেয়ে জাপা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। নাম প্রকাশ না করে রাঙ্গা বলেন, দুই-একজন নেতা দলের চেয়ারম্যানের আদেশ উপেক্ষা করে দল থেকে পদত্যাগ করে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তারা যে বড় মানের নেতা তা রংপুরে এরশাদভক্ত ও সমর্থকরা জবাব দিয়েছেন ব্যালটের ম্যাধমে। নতুন সিটি করপোরেশনের নতুন মেয়র শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু সম্পর্কে বলেন, তিনি অত্যন্ত অভিজ্ঞ লোক। তারা দ্বারা রংপুরের উন্নয়ন হবে।
জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কৃত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মেয়র পদে পরাজিত হওয়া মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, দলের চেয়ারম্যানের কারণে জাপা চুরমার হয়ে যাবে। বারবার প্রার্থী বদল, নেতাদের বহিষ্কার এবং শেষ মুহূর্তে একজনকে আশীর্বাদ, এসব কিছুর কারণে মাঠ পর্যায়ে জাপার নেতাকর্মীদের ঘৃণা এসেছে জাতীয় পার্টির প্রতি। সাধারণ ভোটাররা বিভ্রান্তিতে পড়ায় আমার ফলাফলে বিপর্যয় হয়েছে।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পুলিশ কমিউনিটি হলের কক্ষে বেসরকারিভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার রাত থেকে মেয়র ঝন্টুর বাড়িতে জড়ো হয় নেতাকর্মী-সমর্থকরা। ফুল দিয়ে তারা বরণ করে তাদের নতুন এ নগরপিতাকে। ঝন্টু এ সময় সাংবাদিকদের বলেন, আমার এ বিজয় রংপুরবাসীর। এজন্য তিনি তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমাকে বিজয়ী করার জন্য আমি রংপুরবাসীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তারা অপশক্তির বিরুদ্ধে গিয়ে তাদের নিজস্ব লোককে বেছে নিয়েছেন। এজন্য আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।
শীর্ষ মেয়র প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট: আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু পেয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজার ২৫৫ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জাপা (এ) থেকে বহিষ্কৃত মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা পেয়েছেন ৭৭ হাজার ৮০৫ ভোট, একেএম আবদুর রউফ মানিক পেয়েছেন ৩৭ হাজার ২০৮ ভোট। নির্বাচনে শতকরা ৭৮ দশমিক ৮৭ ভাগ ভোট পড়েছে।
ফল মেনে ঝন্টুকে অভিনন্দন মোস্তফার: রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে বিজয়ীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন পরাজিত প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। ভালো কাজে নগরপিতার পাশে থাকার কথাও জানালেন তিনি। গতকাল পরাজিত প্রার্থী মোস্তফা জানান, আমি ফলাফল মেনে নিয়েছি। সেইসঙ্গে বিজয়ী প্রার্থী শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।
রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট গণনার নামে সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে নির্বাচনী ফল ঘোষণা দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ৩০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুল লতিফ সরকার (টিউবয়েল)। গতকাল শুক্রবার বিকেলে নগরীর সাতমাথায় তার নির্বাচনী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ২০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ফলাফল ঘোষণা একটি ঘৃণিত রায়। যা এই ওয়ার্ডের মানুষ মেনে নিতে নারাজ। ৩ দিনের আলটিমেটাম দিয়ে তিনি বলেন, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছতার জন্য পুনরায় এই ওয়ার্ডের ভোট গণনা করতে হবে। তিনি গণনা না হওয়া পর্যন্ত সরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা না করার দাবি জানান।
