গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় দু’টি গ্রামের মধ্যে ২ ঘন্টাব্যাপী ভয়াবহ সংঘর্ষে টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি, এসআইসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে পাটগাতী বাসস্ট্যান্ডে অন্তত ১০টি দোকান ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এসময় গোপালগঞ্জ-পাটগাতী সড়কে ২ ঘন্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। শুক্রবার সন্ধ্যায় টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পাটগাতী বাসস্ট্যান্ডে আওয়ামী লীগ অফিসের পাশে পাটগাতী ও গিমাডাঙ্গা গ্রামের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
মারাত্মক আহত টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি মোঃ হাবিবুল্লাহ, এসআই হাফিজ ভুঁইয়া, এএসআই এনামুল হক, টুঙ্গিপাড়া শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্র রাকিব শেখ, পাটগাতী গ্রামের জামাল শেখ, তামিম মোল্লাসহ ২১ জনকে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গোপালগঞ্জ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে সন্ধ্যা ৭ টার দিকে ৬ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। টিয়ার সেল নিক্ষেপ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে গ্রামবাসী পুলিশের এসআই হাফিজ ভুঁইয়াকে বেদম মারপিট করে। গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান, এএসপি হেড কোয়ার্টার সুজ্ঞান চাকমা, এএসপি সার্কেল মোঃ মনিরুজ্জামানসহ পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
শুক্রবার বিকালে গিমাডাঙ্গা গ্রামের মজিবর মোল্লার ছেলে ও বঙ্গবন্ধু সমাধিসৌধের কর্মচারী শরিফুল ইসলাম মোল্লা টুঙ্গিপাড়া বঙ্গবন্ধু সমাধিসৌধে যাওয়ার জন্য পাটগাতী বাসস্ট্যাান্ডে এসে ইজি বাইক চালক পাটগাতী গ্রামের ফারুক মুন্সির কাছে ভাড়া জিজ্ঞাসা করেন। ইজি বাইক চালক ৫ টাকার ভাড়া ১৫ টাকা চাইলে দু’ জনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিকাল ৫ টার দিকে দু’ গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। মুহূর্তের মধ্যে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। টুঙ্গিপাড়া থানা পুলিশ, উপজেলা চেয়ারম্যান সোলায়মান বিশ্বাস, পৌর মেয়র মোঃ ইলিয়াস হোসেন চেষ্টা করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হন। সংঘর্ষে টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি মোঃ হাবিবুল্লাহ, এসআই হাফিজ ভুঁইয়া, এএসআই এনামুল হকসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হন। এ সময় গোপালগঞ্জ-পাটগাতী সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। দু’পাশে অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে। যাত্রীদের পোহাতে হয় দুর্ভোগ।
টুঙ্গিপাড়া থানার এএসআই এনামুল হক বলেন, আমি টিয়ার শেল নিক্ষেপ করার পর আমার সহকর্মী ও আমার ওপর সংঘর্ষে লিপ্তরা হামলা করে। এতে তারা আহত হন। তিনি ৬ রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপের কথা স্বীকার করেন। গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান সংঘর্ষের কথা স্বীকার করে বলেন, সন্ধ্যা ৭ টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
