এশিয়া এনার্জির বিরুদ্ধে লন্ডনে বিক্ষোভ

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১৫
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন পরিকল্পনার প্রতিবাদে লন্ডনে এশিয়া এনার্জির কার্যালয়ের সামনে কয়লা ফেলে বিক্ষোভ করেছে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ পরিবেশ আন্দোলন কর্মীরা। বৃহস্পতিবার এশিয়া এনার্জির মূল প্রতিষ্ঠান জিসিএম রিসোর্সের বার্ষিক সভা চলাকালে বাংলাদেশের তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ, বিদ্যুত্-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির যুক্তরাজ্য শাখাসহ আরো কয়েকটি সংগঠন এ বিক্ষোভ করে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের। শান্তা ক্লজের সাজে এক বিক্ষোভকারী জিসিএমের চেয়ারম্যান জেরার্ড হাওয়েলের কাছে এক ব্যাগ কয়লা হস্তান্তর করলে ইনস্টিটিউট অব ডিরেক্টরসে অনুষ্ঠিত ওই সভা সমাপ্ত হয়ে যায়। দুই বিক্ষোভকারীকে আটক করা হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের সাবসিডিয়ারি বাজারে তালিকাভুক্ত এশিয়া এনার্জি বাংলাদেশের ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের পরিকল্পনার কথা বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়েছে। তবে সরকার বিষয়টিতে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট ম্যুভমেন্ট ও ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি প্রজেক্ট নামে দুটি সংগঠন এশিয়া এনার্জির বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে। এতে বলা হয়, প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ওই কোম্পানি ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে ঘরবাড়ি থেকে জোর করে উচ্ছেদ করবে। এতে উল্লেখ করা হয়, এই বছরের শুরুর দিকে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, প্রকল্পের কারণে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষের নিরাপদ পানির সঙ্কটে পড়তে পারে। ফ্রিডম অব ইনফরমেশন অ্যাক্টের প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, জিসিএমের কর্তা-ব্যক্তিরা বাংলাদেশ সরকার ও কোম্পানির মধ্যে সম্পর্ক সহজ করতে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য ও শিল্প বিভাগের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। এশিয়া এনার্জি অবশ্য জানিয়েছে, এ খনির কারণে ৪০ হাজার মানুষকে ঘর ছাড়তে হলেও ১৭ হাজার লোক চাকরির সুবিধা পাবে। এক হাজার ফুট গভীরতার এই খনির আয়তন হবে ১৪ হাজার ৫০০ একর। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের প্রতিবাদে ও এশিয়া এনার্জিকে দেশ থেকে বহিষ্কারের দাবিতে ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট ফুলবাড়ীতে জনতার বিক্ষোভে পুলিশ গুলি চালালে তিনজন নিহত ও ৮শ আহত হয়। এরপর এ প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কোম্পানিটি। জিসিএম বলেছে, বাংলাদেশে জ্বালানির চাহিদা মেটাতে এ প্রকল্পের প্রয়োজন অপরিহার্য। দেশটি নিজেদের প্রয়োজনে ১১৪ মিলিয়ন টন কয়লার চাহিদা মিটিয়ে ৪৫৮ মিলিয়ন টন রপ্তানি করতে পারবে।