খুলনা কারাগারে ক্ষমতার চেয়ে বন্দি তিনগুণ

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১৫
খুলনা জেলা কারাগারে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে তিনগুণ বেশি বন্দী রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই কারাগারে বন্দী ধারণ ক্ষমতা ৬০৮ জন। সেখানে বর্তমানে এই কারাগারে বন্দী রয়েছেন প্রায় দেড় হাজার। এর মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ৪০১ জন ও মহিলা ৬৮ জন। মহিলা বন্দীদের সাথে আছে ১৮টি শিশু। আছেন ৯ জন বিদেশি নাগরিক ও একজন সাবেক সংসদ সদস্য। সম্প্রতি শিশুদের পরিচর্যার জন্য কারাগারে একটি কেন্দ্র খোলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কারাগারে বিভিন্ন আকৃতির মোট ১৯টি সাধারণ ওয়ার্ড রয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি পুরুষ ওয়ার্ড (সাধারণ ওয়ার্ড) ও ৪টি মহিলা ওয়ার্ড। অর্থাত্ ধারণ ক্ষমতার প্রায় তিনগুণ বেশি বন্দী কারাগারে কারাবাস করছেন। জামিনে মুক্তি পাওয়া একজন মহিলা হাজতি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তার আড়াই বছরের শিশু কন্যা নিয়ে তিনি একটি হত্যা মামলায় কারাগারে যান। এখানে বাচ্চাদের খেলনা, বল, রিকশা সঠিকভাবে দেয়া হয় না। যখন বড় অফিসাররা কারাগারের মহিলা ওয়ার্ড পরিদর্শনে আসেন তখন কারারক্ষীরা শিশুদের খেলনা দেন। ওই খেলনা আবার বড় অফিসার চলে যাওয়ার পর নিয়ে যাওয়া হয়। বড় অফিসাররা বন্দীদের কাছে সমস্যার কথা জিজ্ঞাসা করলেও নির্যাতনের ভয়ে কোন বন্দীই অনিয়মের কথা বলেন না। শুধু যাদের আইনজীবী নেই তারা আইনজীবী প্রয়োজনের কথা বলেন। এক্ষেত্রে কারাগার থেকে সরকারিভাবে আইনজীবী দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। খুলনা জেলা বেসরকারি কারা পরিদর্শক হিসেবে ৭ জন ব্যক্তি রয়েছেন। তারা প্রতি সপ্তাহে বা মাসে একবার করে কারাগার পরিদর্শন করে তাদের মতামত প্রদান করেন। কারা পরিদর্শক বেগ লিয়াকত আলী বলেন, কারাভ্যন্তরের পরিবেশ দেখার জন্য আমি হুটহাট করে কারাগার পরিদর্শনে যাই। তবে কারাগারের পরিবেশ বিগত দিনের চেয়ে অনেক ভাল। আরেক পরিদর্শক এ কে এম সানাউল¬াহ নান্নু বলেন, গত ৮/৯ মাস আগে কারা পরিদর্শকের কমিটি গঠন করা হলেও আমি এ পর্যন্ত মাত্র দুইবার কারাগার পরিদর্শনে গিয়েছি। কারাগারে সার্বক্ষণিক চিকিত্সক না থাকা ছাড়া প্রায় সব বিষয়ই আগের চেয়ে ভাল। কারাগারে সার্বক্ষণিক চিকিত্সক না থাকার কারণে চিকিত্সা সেবা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তারপরও কর্তৃপক্ষ বন্দীদের চিকিত্সা সেবা নিশ্চিত করতে খুলনা জেনারেল হাসপাতাল থেকে পার্ট-টাইম একজন চিকিত্সক এনে বন্দীদের চিকিত্সা দিচ্ছেন। খুলনা জেলা কারাগারের জেলার রফিকুল ইসলাম বলেন, কিছু ত্রুটি থাকতে পারে। তবে সব মিলিয়ে কারাগারের পরিবেশ আগের তুলনায় এখন অনেক ভাল। প্রতি মাসে ৪০/৪৫ জন দরিদ্র বন্দীকে আইনি সহায়তা (লিগ্যাল এইড) দেয়া হয়। তবে আইনি সহায়তা একটি ধীর প্রক্রিয়া। সাক্ষর জ্ঞান ছাড়া কোন বন্দীকে কারাগার থেকে জামিনে বের হতে দেয়া হয় না। জামিন পাওয়ার পরও একদিন বের হতে না দিলেই পরের দিন ওই বন্দী সাক্ষর জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এখানে ধারণ ক্ষমতা যা থাকুক না কেন বন্দী আসলেই তাকে থাকার ও খাওয়ারসহ আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা করতে হয়। না বলার কোন উপায় নেই।