ছবি আঁকা শিশুদের কল্পনাশক্তি বাড়ে, শৃঙ্খলাপরায়ণ হয়

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:২৯
সাধারণত শিশু-কিশোররা একই সঙ্গে মেলামেশা করে বড় হতে থাকে। প্রায় একই রকম ভাবনা-চিন্তা তাদের। বেড়ে ওঠে আপন মনে একই রকম খেলা খেলে। এই বয়সে বিনোদনের প্রতিটি ক্ষেত্রে একই সঙ্গে থাকলে বোঝাপরাটা সুন্দর হয়, সহজ হয় এবং হূদ্যতা বাড়ে। একে অপরের ভাল-মন্দে সহানুভূতিশীল হয়। ঈর্ষাপরায়ণ হয় না। চারুকলা বিষয়টি এজন্য একই সঙ্গে অনুশীলনের বিষয়। সহশিক্ষার সময় একে অপরের কাজ দেখবে এবং একই সঙ্গে সুন্দর মানসিকতা তৈরি হবে উভয়েরই। একই সঙ্গে ছবি আঁকার ব্যাপারটা কিন্তু শুধু ছবি আঁকা শেখার জন্যই নয়। এ শিক্ষায় শিশুদের কল্পনাশক্তি বাড়ে, শৃঙ্খলাপরায়ণ হয়। বুদ্ধির বিকাশ ঘটে এবং পরস্পর বন্ধুভাবাপন্ন হয় ইত্যাদি অনেক কিছুই ঘটতে থাকে। একটি উদাহরণ দিয়ে বলি, যেমন— কাগজের কোথায় কোন্ বস্তুটি আঁকতে হবে, কোথায় গাছ থাকবে, কোথায় নদী, বাড়ীঘর বা কোন্ বস্তুটি বড় বা ছোট হবে, কোথায় কি রং লাগাতে হবে—এই পরিমিতি বোধগুলো এ শিক্ষায় ধীরে ধীরে ফুটে ওঠে। এভাবে সুন্দর একটি মনোভাব তৈরি হয়। বয়সের তারতম্য অনুযায়ী বস্তুর উপস্থাপনারও তারতম্য হয়। এগুলো শিশু-কিশোরদের সহশিক্ষার মধ্যদিয়েই উপযুক্ত বিকাশ ঘটতে থাকে। যেকোন বিষয়ে শিশু-কিশোরদের সহশিক্ষা তাদের ভবিষ্যতের জন্য কল্যাণকর। শিশুকালেই সব শিশুরই ছবি আঁকার ইচ্ছেটা তৈরি হয় এবং এটাই স্বাভাবিক। এখানে শিশুকে তার শৈশব শুরুর থেকেই আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে কিভাবে তার বিকাশ ঘটছে বা বিকাশে কোন বিঘ্ন হচ্ছে কিনা। খেলাধুলা, আচার-আচরণ এমনকি খাওয়া-দাওয়ায় তার রুচির ব্যাপারটি স্বাভাবিক কিনা এসবই তখন আমাদের লক্ষণীয় বিষয়। মনোবিজ্ঞানীরা সে বিষয়টিই পর্যবেক্ষণ করেন। তাই শিশু-কিশোরদের এভাবে বেড়ে ওঠার ব্যাপারটির দিকে আমাদের বিশেষ যত্নবান হতে হবে। কোনভাবেই শিশু-কিশোরদের প্রতি আমাদের অবহেলা করা চলবে না। ছবি আঁকা ব্যাপারটি একটি Therapy বটে। এটির বিশ্লেষণে আমরা তাদের মানসিক ও বুদ্ধি বিকাশের ব্যাপারটি যথাযথভাবে এগোচ্ছে কি-না জানতে পারি। এতে তারতম্য ঘটলে আমাদের শঙ্কিত হতে হয়। দীর্ঘদিনের পরীক্ষায় জানা যায়—শিশুদের ছবি আঁকার প্রয়োজনীয়তা কত অপরিহার্য। অতএব শিশুকালেই ছবি আঁকার জন্য তাদের হাতে খেলনার সঙ্গে রং-কাগজ ও তুলি দিতে হবে। খেলনার মত রং-কাগজ হাতে পেলেও শিশুরা আত্মহারা হয়ে যায়। এটাই স্বাভাবিক এবং লক্ষণীয়।