দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন হলে গ্রহণযোগ্য হবে না

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১৬
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক উল হক দুই নেত্রীকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করার জন্য চাপ সৃষ্টির আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। বর্তমানে বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীনরা বলছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কথা। কিন্তু কোনো পক্ষই নিজেদের প্রস্তাবিত সরকারের রূপরেখা সম্পর্কে কিছু বলছে না। এ অবস্থায় দুই প্রধান নেত্রীকে আলোচনায় বসানোর কোনো বিকল্প নেই। আলোচনার মাধ্যমেই সংকটের সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। গতকাল শনিবার সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনে আয়োজিত বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার ত্রয়োদশ জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি এডভোকেট জয়নুল আবেদীন, বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শ ম রেজাউল করিম, মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সভাপতি ও সাবেক সচিব আসাফউদ্দৌলাহ, সংস্থার পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম প্রমুখ। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও বিএনপির সাবেক নেতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে আরও বেশ ক’জন বক্তা বিরাজমান রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের জন্য দুই নেত্রীর সংলাপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেন, আগামী নির্বাচনের জন্য বিএনপি বলছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দরকার। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ বলছে নির্বাচনের সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থাকবে। কিন্তু এই দুই সরকারের রূপরেখাটা কী, সেটা নিয়ে কোনো দলই স্পষ্ট করে কিছু বলছে না। সাধারণ মানুষ হিসাবে আমরা তাদের প্রস্তাবিত সরকারের রূপরেখা সম্পর্কে জানতে চাই। সে জন্য যে কোনো উপায়ে দুই নেত্রীকে সংলাপে বসাতে হবে। প্রয়োজনে এমন জনমত বা পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে তাঁরা বসতে বাধ্য হন। কারণ, বর্তমানে যে সরকার ক্ষমতায় আছে, তাদের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সেটা গ্রহণযোগ্য হবে না। দুই দলের আলোচনার মাধ্যমে কোনো সরকার গঠন করে সেই সরকারের অধীনে নির্বাচন দিলেই কেবল তা গ্রহণযোগ্য হবে। মূল প্রবন্ধে নাজমুল হুদা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সম্পর্কে তার নিজস্ব ভাবনা তুলে ধরেন। তাতে বলা হয়েছে, সংসদ ভেঙে যাওয়ার পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে দুই নেত্রী মতৈক্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করবেন এবং ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার ৯০ দিন আগে প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলীয় নেতাকে সংলাপে বসার আহ্বান জানাবেন। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া না দিলে জাতির ক্ষয়ক্ষতির দায়দায়িত্ব বিরোধী দলীয় নেতাকে বহন করতে হবে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী যদি বিরোধীদলীয় নেতাকে আলোচনার আহ্বান না জানান, তাহলে সেই ক্ষেত্রে সব রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধভাবে দুই নেত্রীর পতনের আন্দোলন শুরু করতে হবে। নাজমুল হুদার এই প্রস্তাবের সমালোচনা করে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, এই সম্মেলন মানবাধিকার বিষয়ক। সুতরাং এখানে মানবাধিকারের আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। তবে পাল্টা অভিমত দিয়ে বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক স ম রেজাউল করিম বলেন, মানবাধিকার জনগণের সাংবিধানিক অধিকার। এটিকে রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব নয়। খালেদা জিয়ার আত্মসমর্পণের ইত্তেফাক রিপোর্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ১৪ দলের নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, খালেদা জিয়া নয়, জনগণের আন্দোলনের মুখে শিগগির আপনারা জনগণের কাছে আত্মসমর্পণে বাধ্য হবেন। খালেদা জিয়ার আত্মসমর্পণের প্রশ্নই আসে না। অপেক্ষা করুন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থানের দিন ঘনিয়ে আসছে। পতনের সময় চলে এলে সব সরকারই এমন স্বৈরাচারী আচরণ করে । গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে মোশাররফ একথা বলেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী আবুল বাশারের মুক্তির দাবিতে সুত্রাপুর থানা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন এ মানববন্ধনের আয়োজন করে। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।