অ্যানিমেশনের ফাঁদে!

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:৫৬
কিছু মানুষকে অল্প সময়ের জন্য বোকা বানানো নয় বরং একসাথে অনেক মানুষকে দীর্ঘ সময়ের জন্য বোকা বানিয়েই এবার ব্যতিক্রমী এক সংবাদ শিরোনামের জন্ম দিয়েছে কানাডার মনট্রিলে অবস্থিত সেন্টার এনএডি’র অ্যানিমেশন বিভাগের কয়েক শিক্ষার্থী। তবে এরও আগে তাদের বানানো একটি ভিডিও গোটা বিশ্বজুড়ে ভিডিও শেয়ারিং এর সাইট ইউটিউবের মাধ্যমে অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় বিশ্বের একাধিক সংবাদমাধ্যমেও। আলোচিত এই ভিডিও চিত্রে একটি গোল্ডেন ঈগলকে মাঠের মাঝখান থেকে এক থাবায় একটি শিশুকে উঠিয়ে নেবার চেষ্টা করতে দেখা যায়। প্রথম প্রচেষ্টায় শিশুটিকে থাবা দিয়ে তার স্ট্রলার থেকে উঠিয়ে নিতে সক্ষম হলেও কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ভারসাম্য হারিয়ে শিশুটিকে মাটিতে ফেলে দেয় ঈগলটি। বলা বাহুল্য, গা শিউরে ওঠার মতো এই ভিডিওটি দেখে অনেকেই ভয়ে আঁতকে উঠেছিলেন। এ নিয়ে আলোচনা আর সামাজিক যোগাযোগের সাইটে ভিডিওটি শেয়ারের ঘটনাও ঘটছিল প্রচুর। কিন্তু মানুষের মাঝে অ্যানিমেশনের মাধ্যমে তৈরি করা এই ভিডিওটির জনপ্রিয়তা আর এ নিয়ে আলোচনা দেখে এগিয়ে আসে খোদ সেন্টার এনএডি কর্তৃপক্ষই। ভিডিওটি ইউটিউবে প্রকাশিত হবার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মাথায় বিষয়টিকে তাদের তিন শিক্ষার্থীর কাজ বলে তথ্য প্রকাশ করে এনএডি। এতে জানানো হয় নরম্যান্ড, মিরল্ট এবং ফেলিক্স মারকুইস নামের তিন শিক্ষার্থী থ্রি ডি অ্যানিমেশন অ্যান্ড ডিজিটাল ডিজাইনের উপর স্নাতক কোর্সের অংশ হিসেবে তাদের প্রোডাকশন সিমুলেশন ওয়ার্কশপে এই ভিডিওটি তৈরি করে। এতে খালি মাঠের একটি ভিডিওর মাঝে অ্যানিমেশনের মাধ্যমে ঈগল ও শিশুটিকে যুক্ত করা হয়। বিষয়টি ইউটিউবের দু’একজন ব্যবহারকারী খানিকটা আঁচ করতে পারলেও অধিকাংশ মানুষই এই তিন শিক্ষার্থী অ্যানিমেশনের ফাঁদে পা দেন। এমনকি স্রেফ অবিশ্বাস থেকে যাকে এরা বানোয়াটা ভিডিও বলে সন্দেহ করেছিলেন এমন অনেক অ্যানিমেশন বিশেষজ্ঞও এটিকে অসাধারণ একটি কাজ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।