ভাবতে অবাক লাগে যে, কন্যা সন্তানের ভ্রূণ হত্যার মত জঘন্য কাজটি এখনো গোপনে চলছে আমাদের দেশে, যে দেশের মহান স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে বহু নারীর সম্ভ্রম আর আত্মত্যাগের বিনিময়ে। গ্রাম অঞ্চলে এই বিষয়টি বেশি হয়ে থাকে, কুসংস্কার, বাল্যবিবাহ, অশিক্ষা ও দারিদ্র্যতাসহ বিভিন্ন কারণে। তাদের ধারণা পুত্র সন্তান মানে শেষ বয়সের অবলম্বন। গ্রামে এখনো কিছু পরিবার রয়েছে যারা ভাবেন প্রথম পুত্র সন্তান হওয়া চাই, এমনকি পুত্র সন্তান না হলে স্ত্রীকে তালাক দেয়া, পাশবিক নির্যাতন, শাশুড়ি ননদের টিপ্পনিসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয় নারীরা। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ উন্নত দেশগুলোতে কন্যা সন্তানের ভ্রূণ হত্যার বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন। যারা এই জঘন্য কাজটি করে থাকেন তাদের ভাবা উচিত যে, তারাও কোন না কোন নারীর গর্ভে জন্মেছেন। সরকার, মন্ত্রীপরিষদ, রাজনীতি, অর্থনীতি ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সর্বত্রই আমরা নারীর উপস্থিতি দেখতে পাই। কাজেই কন্যা সন্তানের ভ্রূণ হত্যা রোধে পারিবারিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক জোরাল উদ্যোগের পাশাপাশি গণমাধ্যমের তৃণমূল প্রচারণা ও সহায়তা দরকার। পরিশেষে বলব যে, মিনার কার্টুনকে শুধুমাত্র বাচ্চাদের ভেতর সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে হবে, আর যার একটাই শ্লোগান হওয়া উচিত, ‘আমরা পারবই, কন্যা সন্তানের ভ্রূণ হত্যা রুখবোই’।
