সেমিনারে বক্তারা

চরাঞ্চলে বেশিরভাগ পরিবার খাদ্য সঙ্কটে

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৩৯
দেশের সবচেয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রবণ এলাকা চরাঞ্চল। ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও চিকিত্সা বঞ্চিত হওয়ায় এ অঞ্চলে সমস্যার অন্ত নেই। তবে চরাঞ্চলে সবচেয়ে বড় সমস্যা খাদ্য নিরাপত্তার অভাব। গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড’ এবং ‘উন্নয়ন সমুন্বয়’ এর যৌথ আয়োজনে ‘উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দ্বীপ চরের অতি দরিদ্র মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খাদ্য মন্ত্রী ড. মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক। মন্ত্রী বলেন, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ছাড়াও চরাঞ্চলের মানুষ চরম আইন-শৃঙ্খলার অভাবে সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে থাকে। যোগাযোগ ব্যবস্থার অপ্রতুলতার কারণে তাদেরকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আইনগত সেবা দেয়া যায় না বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, নদী ভাঙ্গনের ফলে হাওর উপকূলবর্তী এলাকাগুলো সবসময় ঝুঁকিপূর্ণ থাকে। তাই উপকূলবর্তী এলাকার মানুষের জীবনের ঝুঁকি সব চেয়ে বেশি। নদী ভাঙ্গনের ফলে উপকূলীবর্তী এলাকার মানুষের মাথা পিছু আয়ের পরিমাণ, জাতীয় আয়ের তুলনায় অনেক কম বলে মনে করেন তিনি। সেমিনারে ‘নদী ও জীবন-২ প্রকল্প’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধে উন্নয়ন সমুন্বয়ের কো-অর্ডিনেটর জাহিদ রহমান বলেন, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দ্বীপ চরের মানুষরা চরম খাদ্য ও অর্থনৈতিক ঝুঁকির মধ্যে বাস করে। দুর্যোগ আর দুরাবস্থায় নারী ও শিশুদের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। তিনি বলেন, দ্বীপ চরের প্রায় ১৫ ভাগ পরিবার সারা বছর দিনে ১ বেলা খেতে পায়। আর ৪১ ভাগ মানুষ খেতে পায় ২ বেলা। এখানকার প্রায় ৬৫ ভাগ মানুষ প্রায় সারা বছরই কম-বেশি খাদ্য কষ্টে থাকে। এছাড়া ৮৮ শতাংশ মানুষ কোনো স্বাস্থ্য সুবিধা পান না। তিনি আরও বলেন, ৩৭ থেকে ৫৫ ভাগ চরবাসী চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করে এবং ৭৪ শতাংশ মানুষই ভূমিহীন। এখানকার ৮৫ শতাংশ পরিবার চরম খাদ্য সঙ্কটের মধ্যে দিন কাটায়। চরাঞ্চলের ৯৫ শতাংশ কৃষক কৃষি অধিদপ্তরের সেবা ও ৮৮ শতাংশ মানুষ কোন স্বাস্থ্য সেবা পান না বলেও তিনি জানান। তাই এসব দরিদ্র ও সেবা বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য খাদ্য নিরাপত্তা ও সেবা সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সেমিনারে কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, পরিকল্পনা করে দেশ থেকে যেভাবে মঙ্গা দূর করা হয়েছে তেমনি চরাঞ্চলের সমস্যাও দূর করতে হবে। ওই অঞ্চলগুলোতে শিক্ষা দিতে পারলে ওই অঞ্চলের মানুষ নিজের ভাগ্য নিজেই গড়তে পারবে। তিনি বাজেটে চরাঞ্চলের মানুষের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখারও দাবি জানান। ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক ড. মাহবুব হোসেন বলেন, দেশ সার্বিকভাবে অনেক এগিয়ে গেলেও কোন কোন অঞ্চল কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। এসব পিছিয়ে পড়া অঞ্চলে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করে তাদের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকার, ব্যক্তি ও এনজিওগুলো একসঙ্গে কাজ করতে পারে।