হরিণাকুন্ডুর গ্রাম জুড়ে সীমের হাট

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৫৩
হরিণাকুন্ডু উপজেলার নবগঙ্গা নদীরতীর ঘেঁষে অবস্থিত ভাতুড়িয়া গ্রাম। সাতটি পাড়া মিলে প্রায় ১০ হাজার লোকের বসবাস এই গ্রামে। নদীর অপরদিকে ঝিনাইদহ সদরের সাগান্না ইউনিয়নের প্রাণকেন্দ্র বৈডাঙ্গা বাজারের অবস্থান। প্রাচীন কাল থেকেই এই দুই ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। হিন্দু বসতির সময় থেকেই হরিণাকুন্ডু থানার এ এলাকা শীতকালীন সবজি চাষের জন্য বিখ্যাত ছিল। এখন অন্যান্য সবজির সাথে সীম এনে দিয়েছে নতুন মাত্রা। অনেকে ভাতুড়িয়াকে বলে সীম নগরী আবার অনেকে বলে সীমের হাট। এই গ্রামে এমন কোন কৃষক নেই যার দুই-এক শতক জমিতে সীম নেই। তাছাড়া বড় বড় চাষীদের রয়েছে দুই-এক একর সীমের চাষ। কয়েকজন সীম চাষির সাথে আলাপ কালে তারা জানান, এবার সীম চাষ করে তারা লাভবান। গ্রামের একজন সফল সীম চাষি মো. বকুল হোসেন বলেন, এবার তার ২০ শতক সীমের আবাদ ছিল। সেখান থেকে সে সকল খরচ বাদে ১৫ হাজার টাকা আয় করেছেন। এভাবে আরও যাদের সাথে কথা হলো তারাও এমনটিই জানালেন। ভাতুড়িয়া গ্রামে সকাল ১০টা থেকেই মোড়ে মোড়ে বসে সীমের হাট আর তা চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। তবে গ্রামের কাসেম বাজারে বসে সবচেয়ে বড় সীমের হাট। এছাড়া পার্শ্ববর্তী বৈডাঙ্গা গ্রামের পাটব্লক মোড় ও তেঁতুল তলা মোড়েও বসে বড় সীমের হাট। এসব বাজার থেকে প্রায় ৭০/৮০ টন সীম প্রতিদিন ট্রাক যোগে ঢাকা খুলনা ও চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। ব্যবসায়ীদের দাবি, বৈডাঙ্গা বাজার থেকে কাসেম বাজার সীমের হাট পর্যন্ত পাকা রাস্তাটির প্রতিবছর সংস্কারকরণ। এছাড়া মোড়ে মোড়ে প্রায় ২০ টন সীম ক্রয় করেন ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা। সবমিলে গ্রামটি ঘিরে সীম চাষি ও বিক্রেতাদের প্রতিদিন বসে মিলন মেলা।