জবানবন্দিতে শাওন নাহিদ ও শাকিলের হামলার কথা স্বীকার

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩০
বিশ্বজিত্ দাসের ওপর হামলার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে তিন আসামি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের কমিটিতে ভাল পোষ্ট পাওয়ার জন্য জামায়াত কর্মী ভেবে বিশ্বজিতের উপর তারা হামলা করেছিল। যাতে সবাই জানতে পারে তারা সক্রিয় কর্মী । হত্যার কোন উদ্দেশ্য তাদের ছিল না। বিশ্বজিত্ দাস মারা যাওয়ার পর তারা জানতে পারে বিশ্বজিত্ জামায়াত কর্মী নয়, সে ছিল পথচারী। গতকাল রবিবার আদালতে দেয়া ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ তথ্য জানায় জগন্নাথ বিশ্বদ্যািলয়ের বহিষ্কৃত ছাত্রলীগের কর্মী মাহফুজুর রহমান ওরফে নাহিদ, জি এম রাশেদুজ্জামান ওরফে শাওন ও রফিকুল ইসলাম ওরফে শাকিল। এদিকে মামলার অপর আসামি কাইয়ুম মিয়া ওরফে টিপু ও এইচ এম কিবরিয়াকে পুনরায় তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। তিন আসামি আট দিনের রিমান্ড শেষে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চাইলে গতকাল তাদের আদালতে হাজির করা হয়। গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)তাদের রিমান্ডে নিয়েছিলো । ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ এরফানউল্লাহ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামিদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাদেরকে জেলহাজতে পাঠায়। সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে আসামিরা হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে বলেছে, গত ৯ ডিসেম্বর বিএনপিসহ ১৮ দলের ডাকা অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের কাছে মিছিল বের হয়। এ সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের পরপরই দর্জি দোকানি বিশ্বজিেক তারা দোতলায় উঠতে দেখে। তখন তারা বিশ্বজিেক জামায়াত কর্মী ভেবে তার ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় নাহিদের হাতে কাঠের রোলার, শাওনের হাতে লোহার রড ও শাকিলের হাতে ছিলো চাপাতি। এগুলো দিয়েই তারা বিশ্বজিতের ওপর হামলা করে। তবে রাজন হামলার সময় পিছন দিক থেকে বিশ্বজিেক ছুরিকাঘাত করে । হামলার সময় বিশ্বজিত্ বলতে থাকে আমারে মাইরেন না,আমার নাম বিশ্বজিত্ দাস। এদিকে একই মামলার আসামি কাইয়ুম মিয়া ওরফে টিপু ও এইচ এম কিবরিয়াকে পুনরায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট হারুন অর রশিদ। ৮ দিনের রিমান্ড শেষে পুনরায় ৭ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন জানালে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। নৃশংস এই হত্যার মূল নায়ক শাকিলসহ এ পর্যন্ত মামলায় মোট ১০ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম বর্তমানে রিমান্ডে আছে। এছাড়া অপর আসামি মামুন অর রশিদ, ফারুক হোসেন, কাজী নাহিদুজ্জামান তুহিন ও মোসলেহউদ্দীন মোসলেম কারাগারে আছে।