৬ বছর তেলের ঘানি টেনে সংসার চলছে ছকিনার

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩২
গরু কেনার সামর্থ্য নেই, তাই স্বামী আর স্ত্রী মিলে দীর্ঘ ৬টি বছর গরুর পরিবর্তে নিজেরাই তেলের ঘানি টেনে আসছেন। এক বেলা খেয়ে না খেয়ে জীবন যুদ্ধে নেমেছেন তারা। তাদের বাড়ি লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দেওডোবা গ্রামে। সম্প্রতি উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের দেওডোবা গ্রামে ওই দম্পতির বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, স্ত্রী ছকিনা খাতুন ঘানি টানছেন আর স্বামী হোসেন আলী তাকে সহায়তা করছেন। এত শীতের মধ্যেও পুরো শরীর বেয়ে ঘাম ঝরছে ছকিনার। তারপরেও ক্লান্তি নেই। চোখে-মুখে তাদের বাঁচার স্বপ্ন। কথা বলে জানা গেছে, হোসেন আলীর (৪০) সঙ্গে ১৩ বছর পূর্বে বিয়ে হয় একই এলাকার ছকিনা খাতুনের (২৮)। হোসেন আলীর জমি বলতে মাত্র ৫ শতক বসতভিটা। তাও আবার এ ভিটায় ৫ ভাইয়ের বসবাস। আর নিজের বলতে একটি কুঁড়ে ঘরে গাদাগাদি করে ৫ জনের বসবাস। ২ মেয়ে ও এক ছেলের বাবা-মা হয়েছেন তারা। বড় মেয়ে রিমু (১২) স্থানীয় একটি ব্র্যাক স্কুলের ৩য় শ্রেণীর ছাত্রী। আর ছোট মেয়ে শিমু (৭) ও ছেলে রাকিব (১)। ৫ জনের সংসার চলে তেলের ঘানি টেনে। কথা হয় ছকিনা বেগমের সাথে। তিনি জানান, এক বেলা খেয়ে না খেয়ে শ্বশুরের এ পেশাকে আঁঁকড়ে রেখেছেন। এরপরও নিজেকে যেতে হয় অন্যের বাসায় কাজ করতে। একই কথা বললেন তার স্বামী হোসেন আলীও। তিনি আরও জানান, পুঁজি না থাকায় সপ্তাহে ২ দিন তেল মাড়াই করা হয়। আর এই তেল স্থানীয় বাজারে বিক্রির পর তা দিয়ে সরিষা কিনতে হয়। এ থেকেই যা আয় হয় তা দিয়েই কোনরকমে সংসার চলে। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা তারা দু’জনই এ তেলের ঘানি টানেন। আর স্কুল ছুটির পর বড় মেয়ে রিমু খাতুন বাবা-মাকে সাহায্য করে। সপ্তাহে ২ দিন সরিষা মাড়াই করেন ১০ থেকে ১৫ কেজি। আর ৫ কেজি সরিষা মাড়াই করার পর তেল পান সোয়া কেজি থেকে বড়জোর দেড় কেজি। বর্তমান বাজারে তেলের কেজি ৪শ’ টাকা হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। আর সরিষা ৫ কেজি কিনতে হয় সাড়ে ৩শ’ থেকে প্রায় ৪শ’ টাকায়। তেল ও খৈল বিক্রি করে সপ্তাহে যা আয় হয় তা দিয়ে কোনরকমে তাদের ৫ জনের সংসার চলে । গরুর পরিবর্তে ঘানি টানার কারণে হোসেন আলী একবার জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর এলাকাবাসীর সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে চলে চিকিত্সা। এরপর থেকে তিনি আর কোন ভারী কাজ করতে পারেন না বলে জানান। ওই দম্পতি চায় একটু সহযোগিতা। আর সহযোগিতা পেলেই বাপ-দাদার এ পেশাকে আঁঁকড়ে রাখতে পারবেন বলে আশাবাদী তারা। কবে হবে তাদের এ স্বপ্ন পূরণ। এই আশায় বুক বেঁধে সমাজের বিত্তশালীদের মুখের দিকে তাকিয়ে আছেন ছকিনা ও হোসেন আলী।