নির্বাচন নিয়ে আলোচনার টেবিলে আসুন

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩২
প্রধান বিরোধীদল প্রকাশ্যে যুদ্ধাপরাধী-দের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তাদের বিচার বানচালের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করে তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেছেন, বেগম জিয়া তাদের না ছাড়লে আমরা বেগম জিয়াকেই রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে বিতাড়িত করব। তথ্যমন্ত্রী বিরোধী-দলীয় নেত্রীর উদ্দেশে বলেন, নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করতে চান, আসুন আলোচনার টেবিলে। গতকাল রবিবার রাজধানীর গুলিস্তানে মহানগর নাট্যমঞ্চে সামপ্রদায়িকতা বিরোধী জাতীয় সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সাথে জামায়াতের ভাগ্য জড়িয়ে আছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে পারলে সামপ্রদায়িকতার উপর একটি বড় ধাক্কা দিতে পারব। সুখী, সমৃদ্ধ ও শোষণমুক্ত সমাজ নির্মাণ করতে হলে যুদ্ধাপরাধী চক্রকে রাজনীতির মঞ্চ থেকে বিতাড়িত করতে হবে। দেশের বরেণ্য ১৫ বুদ্ধিজীবী সালাহউদ্দীন আহমদ, সরদার ফজলুল করিম, মুস্তাফা নূরউল ইসলাম, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সৈয়দ শামসুল হক, বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, কাইয়ুম চৌধুরী, হামিদা হোসেন, ড. আনিসুজ্জামান, মুহম্মদ জাফর ইকবাল, সেলিনা হোসেন, সুলতানা কামাল, কামাল লোহানী, রামেন্দু মজুমদারের আহ্বানে সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী এই জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী এই সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ এমপি, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি, সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, গণঐক্যের আহ্বায়ক পঙ্কজ ভট্টাচার্য, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের আহ্বায়ক অজয় রায়, অধ্যাপক মুনতাসির মামুন প্রমুখ। তোফায়েল আহমেদ বলেন, যারা সামপ্রদায়িকতা বিরোধী রাজনীতি করে তাদের মধ্যে ঐক্যের অভাব রয়েছে। এই ঐক্য দূর করতে হবে। ড. আনিসুজ্জামান বলেন, সকল সামপ্রদায়িক, মৌলবাদী, জঙ্গিবাদী শক্তিকে পরাস্ত করে বাংলাদেশের নাগরিকদের যে ভেদাভেদহীন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি-ধর্ম চর্চার ঐতিহ্য রয়েছে তা সংহত ও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত চার মূলনীতির ভিত্তিতে নতুন মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে। সৈয়দ শামসুল হক বলেন, বাঙ্গালি সামপ্রদায়িক জাতি নয়। গণতন্ত্রের সাথে সামপ্রদায়িকতা চলতে পারে না। সামপ্রদায়িকতা আমাদের অগ্রগতি দেবে না, উন্নতি দেবে না। যারা সামপ্রদায়িকতার কথা বলে তারা মানবতা বিরোধী। তিনি বলেন, বাঙ্গালি চেতনাকে আমাদের জাতীয় জীবনে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সুলতানা কামাল বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা আমাদের বিভ্রান্ত করতেই থাকবে। তাই দ্রুত এই বিচার সম্পন্ন করতে হবে। রামেন্দু মজুমদার বলেন, সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক, সমতাবাদী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মহান কর্তব্যের পতাকা আজ নতুন প্রজন্মের হাতে আমাদের তুলে দিতে হবে। নতুন প্রজন্মকে যদি আমরা আজ যথাযথ ভাবে উদ্বুদ্ধ করতে না পারি তাহলে চিরকাল আমরা জাতির কাছে অপরাধী হয়ে থাকব। গতকাল সম্মেলনে সকালের অধিবেশনে সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক এবং বিকালের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক, কলামিস্ট কামাল লোহানী। সম্মেলনের ঘোষণায় বলা হয়, সংবিধানে রাষ্ট্রধর্মের বিধান নাগরিকদের মধ্যে বৈষম্য তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে রাষ্ট্র যখন দীর্ঘকাল পর ১৯৭১ সালের মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার সম্পন্ন করার মহত্ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তখন এই বিচারের প্রক্রিয়া রদ করার দাবিতে মৌলবাদী একটি বিশেষ গোষ্ঠী রাজপথে সহিংস-নৈরাজ্যবাদী তত্পরতা শুরু করেছে। এসব চলতে থাকলে আমরা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের অর্জনগুলো একে একে হারাবো। দলমত নির্বিশেষে এর বিরুদ্ধে জাতীয় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সম্মেলনে আগামীতে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে এ ধরনের সম্মেলন অনুষ্ঠানের জন্য সচেতন দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।