নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে নিউমোনিয়ার টিকাও অন্তর্ভুক্ত করতে যাচ্ছে সরকার। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক গতকাল রবিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে নিউমোনিয়ার মতো ফুসফুসের সংক্রমণে শিশু মৃত্যুরোধে এ ঘোষণা দেন। নিয়মিত টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য বাংলাদেশ ‘জিএভিআই বেস্ট পারফরমেন্স অ্যাওয়ার্ড’ পাওয়ায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। দ্য গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমুনাইজেশন (জিএভিআই) ৭৪টি অংশীদার দেশের মধ্যে টিকাদান কর্মসূচিতে সবচেয়ে ভালো করায় দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশকে পুরস্কৃত করলো।
বাংলাদেশকে টিকা কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের প্রায় অর্ধেকের যোগান দেয় সংস্থাটি। গত ৬ ডিসেম্বর তানজানিয়ায় জিএভিআই অংশীদারদের বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই পুরস্কারটি গ্রহণ করেন। জিএভিআই নিউমোনিয়ার টিকা চালুর জন্য সহায়তা করেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, ২০১৩ সালের প্রথম প্রান্তিকের মধ্যেই এ টিকা চালু করা হতে পারে।
শিশু চিকিত্সকদের বিভিন্ন সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে নিউমোনিয়ার টিকা চালুর দাবি করে আসছিলেন। বাংলাদেশের পাঁচ বছরের নিচে শিশুমৃত্যুর এক-পঞ্চমাংশের কারণ নিউমোনিয়া। তারা যুক্তি দেখান, এ টিকা চালু না হলে ২০১৫ সালের মধ্যে জন্ম নেয়া প্রতি হাজার শিশুর মধ্যে মৃত্যুর ঘটনা ৫৩ থেকে ৪৮টিতে নামিয়ে আনার মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল-৪-এর লক্ষ্য বাধাগ্রস্ত হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, নিউমোনিয়ার টিকা ছাড়াও সরকার রোটা ভাইরাস-এ জরায়ুর ক্যান্সার প্রতিরোধেও টিকা চালুর পরিকল্পনা করছে। সম্প্রসারিত চিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) জানায়, ২০১১ সালে প্রথম জন্মবার্ষিকীর আগেই ৮০ শতাংশ শিশুকে সব ডোজসহ পুরোপুরি টিকা দেয়া হয়। ইপিআইয়ের পরিচালক ড. সাইদ আবু জাফর মো. মুসা বলেন, এক ডোজ টিকা পেয়েছে এমন শিশুদের ধরা হলে ৯৫ শতাংশ শিশুই টিকা পেয়েছে। ২০১৬ সালের মধ্যে ৯০ শতাংশ শিশুকেই পুরোপুরি টিকা দেয়ার কৌশল নেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। প্রসঙ্গত টিকাদান কর্মসূচিতে সাফল্যের জন্য ২০০৯ সালেও বাংলাদেশ জিএভিআই পুরস্কার পায়।
