একসাথে খাওয়া ভালো

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:২৮
একটা সময় ছিল যখন খাওয়াদাওয়া মানেই ছিল পরিবারের সবার একসঙ্গে বসার একটা সুযোগ। তবে কালের পরিক্রমায় মানুষের এই অভ্যাস এখন অনেকটাই পাল্টে গেছে। একেতো যৌথ পরিবারের প্রথা বিলুপ্ত হতে থাকায় পরিবারগুলোর সদস্য সংখ্যা কমছে। তার উপর বিভিন্ন জনের বিভিন্ন সময় খেতে বসা কিংবা খাওয়ার সময় টিভির সামনে বসে বিচ্ছিন্নভাবে খাওয়ার কারণে একসাথে খাওয়ার চল প্রায় হারিয়েই যেতে বসেছে। কিন্তু অন্য অনেক প্রথা আর অভ্যাসের মতো আগেরকার দিনের মানুষের এই একসাথে খাবার গ্রহণেরও একটি উপযোগিতা খুঁজে পেয়েছেন এ যুগের বিজ্ঞানীরা। তারা দেখেছেন, একসাথে না খাওয়ার এই বিষয়টি বিশেষ করে শিশুদের উপর নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করছে। তাদের দাবি যেসব শিশু একা একা খেতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে তাদের স্বাস্থ্য অনেকের সাথে একত্রে খেতে বসা শিশুদের চাইতে খারাপ হয়। আর এ বিষয়টি উঠে এসেছে ‘দ্য জার্নাল অব এপিডেমিওলজি অ্যান্ড কমিউনিটি হেলথ স্টাডি’ নামের একটি গবেষণাপত্রে। তাদের পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায় যেসব শিশু পরিবারের সাথে খাবার খেতে বসে তাদের খাওয়ার অভ্যাস তুলনামূলকভাবে অন্যদের চাইতে ভালো হয়। আর এটি সরাসরি ভূমিকা রাখে শিশুর স্বাস্থ্য গঠনেও। এ প্রসঙ্গে গবেষণা দলের অন্যতম সদস্য এবং পুরো বিষয়টি তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে ‘ইউনিভার্সিটি অব লিডস স্কুল অফ ফুড সায়েন্স অ্যান্ড নিউট্রিশন’-এর অধ্যাপক জ্যানেট কেড জানান, মূলত পরিবারের সবার সাথে খেতে বসলে শিশু উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার বেশি করে খেতে শেখে এবং এর ফলে তাদের দেহে পুষ্টির ঘাটতিও কম দেখা দেয়। এমনকি একসাথে খাওয়ার কারণে প্রাপ্তবয়স্কদের খাওয়ার ধরনেও ইতিবাচক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। উলে¬খ্য, এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার আগে গবেষকরা ৫২টি স্কুলের প্রায় ২৪০০ শিশুর খাদ্যাভ্যাস পর্যবেক্ষণ করেন এবং তাদেরকে কয়েকটি দলে ভাগ করে পরিবারের সাথে কিংবা একা একা খাওয়ার ফলে তাদের স্বাস্থ্যে কী ধরনের প্রভাব পড়ে তা পর্যবেক্ষণ করেন।