পাঁচ বছর পার হয়ে যাওয়ার পর আবার শুরু হয়েছে সেই উত্তেজনা। সর্বশেষ ২০০৭ সালে পাকিস্তান দল এসেছিল ভারতের পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেট সফরে। তারপর থেকে ভারত-পাকিস্তান বিশ্বের বিভিন্ন ভেন্যুতে ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি খেলেছে। পাকিস্তান বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে এবং ভারত এশিয়া কাপ খেলতে পাকিস্তানেও গেছে। কিন্তু একের পর এক কূটনৈতিক শীতলতার ঘটনা তৈরি হওয়ায় দ্বিপাক্ষিক সফর বন্ধই ছিল। অবশেষে আবার ভারত সফরে এসেছে পাকিস্তান। আর আজ ব্যাঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ভেতর দিয়ে শুরু হচ্ছে সফরের আনুষ্ঠানিকতা। সংক্ষিপ্ত এই সফরে দুই দল দুইটি টি-টোয়েন্টি এবং তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলবে। সফরে টেস্ট না থাকায় এটাকেও ক্রিকেটীয় অর্থে অন্তত পূর্ণাঙ্গ সফর বলা যাচ্ছে না।
একেবারে ক্রিকেটীয় জায়গা থেকে দেখতে গেলে আজ টি-টোয়েন্টি ম্যাচের আগে একটু এগিয়েই আছে পাকিস্তান। একে তো বিশ্বের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসের সফলতম দল পাকিস্তান। দুইবার বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছে তারা; একবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সর্বশেষ বিশ্বকাপেও ধারাবাহিকতা ধরে রেখে সেমিফাইনাল খেলেছে পাকিস্তান।
টি-টোয়েন্টির ইতিহাস বিবেচনা করলে ভারতের শুরুটা সবচেয়ে ভালো হয়েছিল। এই পাকিস্তানকেই ফাইনালে হারিয়ে এই ফরম্যাটের প্রথম বিশ্বকাপ জিতেছিল তারা। কিন্তু গত কয়েক বছর খেলাটিতে মোটেও ধারাবাহিক নেই দলটি। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও সুপার এইট পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে।
এসব সমীকরণের বিবেচনায় পাকিস্তানকে সামান্য এগিয়ে রাখতে পারেন। আবার দুই দেশের পরস্পরের বিপক্ষে পারফরম্যান্স দেখলে এগিয়ে রাখতে হবে ভারতকেই। এখন পর্যন্ত ভারত-পাকিস্তান তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। পাকিস্তান কখনোই জয় পায়নি। দুইটি ম্যাচ ভারত জিতেছে এবং একটি হয়েছিল টাই।
ভারতের সেই সঙ্গে দুশ্চিন্তা আছে নিজেদের ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পারফরম্যান্স নিয়ে। টি-টোয়েন্টিতে যুবরাজ ছাড়া কেউই সেভাবে পারফরম করতে পারেননি। নিজেদের মাটিতে খেলায় বিশেষ করে স্পিনারদের এমন নির্বিষ হয়ে থাকায় চিন্তিত থাকারই কথা তাদের। উল্টো দিকে বর্তমান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সেরা বোলার সাঈদ আজমল হয়ে উঠতে পারেন এই কন্ডিশনে ম্যাচ ও সিরিজের নির্ধারক পারফরমার।
তবে আজকের ম্যাচটাকে এসব ক্রিকেটীয় জায়গা থেকে খুব বেশি করে কেউ দেখতে চাইছেন না। সেই মুম্বাই হামলার পর একেবারেই টুকরো হয়ে যাওয়া ভারত-পাকিস্তান কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে এই সফরটিকে। এ বছরের শুরুর দিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রাব্বানির ভারত সফরের সময়ই সিদ্ধান্ত হয়, আবার দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেটীয় সফর শুরু হবে। তারই সূত্রপাত ঘটাতে এসেছে পাকিস্তান। তাদের সফরটা ঠিকঠাক হলে এবং পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলে আগামী বছরই ভারত যেতে পারে পাকিস্তান সফরে।
তবে ততোদূর পর্যন্ত সুসম্পর্ক যাতে না থাকে; সে চেষ্টা করার লোকের অভাব নেই। পাকিস্তানের ভারত সফরের ব্যাপারে সবসময়ই ভারতের কিছু ধর্মভিত্তিক দল আপত্তি করে থাকে। পাকিস্তানের সফর পন্ড করার হুমকি সব সময়ের মতো এখনও আছে। নতুন মাথা চাড়া দিয়ে ওঠা সংগঠন ‘রাম সেনা’ সমপ্রতি দাবি করেছে, তারা এই সফর ভন্ডুল করার জন্য ম্যাচে টিকিট কেটে ঢুকে হামলা চালাবে। এছাড়া বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং শিব সেনাও সবসময়ের মতো হুমকি দিয়েছে।
ভারতীয় নিরাপত্তারক্ষীরা অবশ্য এসব হুমকিকে নস্যাত করে দেয়ার চেষ্টায়ই আছেন। ইতিমধ্যে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামকে নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। পুলিশের ‘বম্ব স্কোয়াড’ ইতিমধ্যে স্টেডিয়াম ও তার আশেপাশের এলাকা খুটিয়ে পরীক্ষা করে ফেলেছে। স্টেডিয়ামের নিরাপত্তায় যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ব্যাঙ্গালুরুর পুলিশ কমিশনার জ্যোতিপ্রকাশ মিরজি বলেছেন, ৫ হাজার সশস্ত্র নিরাপত্তাকর্মী থাকবেন দর্শক-খেলোয়াড়দের নিরাপত্তায়। তিনি বলেছেন, ‘দুই দেশ এই সিরিজ সফল করতে চায়। সুতরাং কোনো সংগঠন হুমকি দিয়ে ম্যাচ ভন্ডুল করতে পারবে না।’
শেষ পর্যন্ত ব্যাঙ্গালুরু পুলিশের এই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হলে তা দুই দেশের ক্রিকেট সমর্থকদের জন্যই প্রাপ্তি হবে।
