নারী জাগরণের অগ্রপথিক ভাষা সৈনিক ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রতিভা মুত্সুদ্দি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের খুনিদের মত ২০১২ সালের বিজয়ের মাসে গোলাম আযম, নিজামি, মোজাহিদসহ সকল যুদ্ধাপরাধীর বিচারের রায় দ্রুত হওয়া উচিত। তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, যে নরঘাতকরা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু, তার সহধর্মিনী, একজন গর্ভবতী মা, ১০ বছরের অবুঝ শিশু রাসেলকেও বুলেটের আঘাতে হত্যা করতে দ্বিধাবোধ করেনি সেই খুনি চক্রদের অনেক আগেই বিচার হওয়া উচিত ছিল। দীর্ঘদিন পরে হলেও খুনিদের ফাঁসি দেয়ায় দেশ কলংকমুক্ত জাতি হয়েছে। অসত্য নিয়ে বেশিদিন টিকে থাকা যায় না। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার ঐতিহাসিক রায়ই তার দৃষ্টান্তমূলক প্রমাণ।
উপমহাদেশের প্রখ্যাত দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা রায় বাহাদুর সম্পর্কে তিনি বলেন- ’৭১-এর নরঘাতকরা বঙ্গবন্ধুর মত ক্ষমা করেনি তাকে এবং তার একমাত্র পুত্র ভবানী প্রসাদ সাহা রবিকে ১৯৭১ সালের ৭ মে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছিল। খুনিদের বিচার আজও হয়নি। এমন রক্তাক্ত স্মৃতির যন্ত্রণা আর কাউকে যেন বইতে না হয় সেজন্য দ্রুত বিচারের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় প্রদানের জন্য অনুরোধ জানান তিনি। প্রতিভা মুত্সুদ্দি ১৯৩৫ সালে ১৬ ডিসেম্বরে চট্টগ্রামের রাউজানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে সম্মানসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রী করেন ১৯৫৯ সালে। ময়মনসিংহ টিচার্স ট্রেনিং কলেজে ১৯৬০ সালে বি.এড করার পর কক্সবাজার গার্লস স্কুলে শিক্ষকতা করেন। পরে গাজীপুর রানী বিলাসমনি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আসেন। তার সৃজনশীলতা ও দক্ষতা দেখে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা ১৯৬৩ সালে প্রভাষক হিসেব টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ভারতেশ্বরী হোমসে আনেন। কঠোর শ্রম আর সততা দিয়ে ভারতেশ্বরী হোমসকে তিনি নারী জাগরণের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন। ভাষা আন্দোলনের সময় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার অপরাধে গ্রেফতার হয়েছিলেন। শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য প্রতিভা মুত্সুদ্দি ২০০২ সালে একুশে পদক প্রাপ্তসহ বহু পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি ভারতেশ্বরী হোমসে শিক্ষা পরিচালক, কুমুদিনী কল্যাণ সংস্থার পরিচালক। তিনি আজও সবার মাঝে বড়দিদি হিসেবেই পরিচিত।
