গত পাঁচ বছর নতুন জাতের কোন আখ চাষ হয়নি। চাষিরা পুরনো জাতের আখ প্রাচীন পদ্ধতিতে চাষ করে আসছে। ফলে আখের ফলন বৃদ্ধির পরিবর্তে কিছুটা কমেছে বলে তাদের অভিযোগ।
আখ বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল। দেশের চিনি ও গুড়ের চাহিদা মেটাতে প্রতি বছর প্রায় চার লাখ একর জমিতে আখ চাষ হয়। দেশের প্রায় ৬ লাখ আখচাষি পরিবার প্রত্যক্ষভাবে চিনিকলগুলোর ওপর নির্ভরশীল। আখ বিক্রি করে প্রতি বছর চাষিরা পায় প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। ঋণ হিসেবে বিতরণ করা হয় প্রায় ১০০ কোটি টাকা।
আখ একটি লাভজনক ফসল হলেও দীর্ঘ মেয়াদের কারণে চাষিদের কাছে তেমন গুরুত্ব পায় না। বাংলাদেশে আখের ফলনও কম। হেক্টর প্রতি গড়ে মাত্র ৪৫ টন। চিনিকল এলাকায় আখের ফলন প্রতি হেক্টরে প্রায় ৫০টন। অপরদিকে চিনিকলবহির্ভূত গুড় উত্পাদন এলাকায় আখের ফলন মাত্র ৩৫জন। যদিও ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত সর্বশেষ জাতের আখের হেক্টর প্রতি ফলন ১৩৯ টন। কিন্তু বিএসআরআই নামের ঐ জাতের আখের বীজ এখনও চাষিদের কাছে আসেনি। এছাড়াও তারা ২০০৬ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ঈশ্বরদী-৩৭, ৩৮, ৩৯ ও ৪০সহ প্রায় অর্ধশত জাতের আখ উদ্ভাবন করেছে। উল্লেখিত জাতের আখের হেক্টর প্রতি ফলন ১০০ টনের ওপরে। কিন্তু সেগুলোর বীজ চাষিরা এখনও পায়নি।
বাংলাদেশ ইক্ষু ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা যায়, ১৯৩৩ সালে ভারতীয় কৃষি বিষয়ক ইমপেরিয়াল কাউন্সিলের আওতায় ঢাকার মণিপুরি ফার্মে ইক্ষু চারা পরীক্ষাগার প্রতিষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এর নাম হয় ‘ইক্ষু গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট’। ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনা হয়। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট অধ্যাদেশ পাস হয় এবং ইক্ষুর পাশাপাশি মিষ্টি জাতীয় ফসলের উপর গবেষণার ম্যান্ডেট প্রদান করা হয়।
