উত্তরের কনকনে শীত আর শৈতপ্রবাহে সিরাজগঞ্জের নদীবিধৌত চৌহালী ও এনায়েতপুরে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত ৪দিন ধরে ঘন কুয়াশার আস্তরণে ঢাকা পড়েছে পুরো এলাকা। ভোর থেকে দেখা মেল না কাঙ্ক্ষিত সূর্যের আলো। মৃদু হাওয়া ও গুঁড়ি-গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাটও ছিল অনেকটা ফাঁকা। রাস্তায় সাধারণ মানুষ আগুন জ্বালিয়ে নিবারণ করছে শীত। তবে বেশি সমস্যায় পড়েছে নদী ভাঙ্গনে সর্বস্ব হারানো এনায়েতপুর থানার বেতিল চরে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নেয়া প্রায় দেড় হাজার মানুষ। একই কারণে এনায়েতপুরের অন্তত ১০ হাজার তাঁত কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ায় এ শিল্পে নেমে এসেছে স্থবিরতা।
এবারের হাড়-কাঁপানো শীতে শিশু ও বৃদ্ধদেরই দুর্ভোগ বেশি। তারা নিউমোনিয়া, কোল্ড ডায়রিয়া ও শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। এদিকে জেলার যমুনা নদীবিধৌত দুর্গম চরাঞ্চল চৌহালী উপজেলার দুস্থ শীতার্ত হাজার-হাজার মানুষদের এখন সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বিরাজ করছে। বিশেষ করে যমুনায় গত ৩ মাসের মধ্যে বিলীন হওয়া এনায়েতপুরের ৬টি গ্রামের অসহায় প্রায় দেড় হাজার মানুষ বেতিলের খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে। এসব মানুষের সহযোগিতায় কেউ এগিয়ে আসেনি। বর্তমানে প্রচণ্ড শীতে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছে। তারা কোন রকমে টিন বা ছনের হেলানা দিয়ে বাস করছে নদী তীরেই। যে কারণে যমুনার ধেয়ে আসা বাতাস এদেরকে আরো কাহিল করে তুলছে। এ ব্যাপারে হবিবর রহমানের স্ত্রী বৃদ্ধা জরিনা (৬৫) এবং শহীদ বেপরির স্ত্রী বৃদ্ধা আকলিমা বানু (৭০) জানান, গত ২ মাস আগে আমাদের ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। এখন আমাদের থাকার জায়গা নেই। জমি-জমা ছিল তাও নেই। তাই নদী চরে টিনের হেলানা করে কষ্টে বসবাস করছি। তারা জানান, একদিকে প্রচণ্ড শীত, অপরদিকে নদীর প্রচণ্ড বাতাস আমাদের ভাঙ্গা ঘরে লাগায় শীতের তীব্রতা আরো বেড়ে যায়। এ অবস্থায় এতো কঠিন শীত আমরা জীবনে দেখেনি।
