২৫ ডিসেম্বর ২০১১ সাল। ঠিক এক বছর আগের কথা। প্রতি বছরের মতো বড় দিন উপলক্ষে পাঁচতারকা হোটেল সোনারগাঁওয়ে যাই।
এই দিনে সোনারগাঁও হোটেলে বাচ্চাদের নিয়ে অনেকেই যান। দিনভর চলে আনন্দ, খেলাধুলা, ছবি তোলা, খাওয়া-দাওয়া আরো কতো কি! বিশেষ এই দিনটিতে আয়োজন করা হয় নানা রাইডস। বাচ্চাদের জন্য থাকে হরেক রকম বিনোদন পর্ব। হঠাত্ সেখানে মেঘের দেখা মেলে। আকাশের মেঘ নয়, বহুল আলোচিত ও নিহত সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির সেই একমাত্র শিশুপুত্র মেঘ। ঘোড়ার রাইড উপভোগ করছে সে। পাশে দাঁড়ানো স্নেহময় বাবা সাগর। অদূরে দেখা গেল সাংবাদিক সরদার আমজাদকে।
মেঘের সাথে আগে থেকেই পরিচয় ছিল। শান্ত, দুরন্ত, বুদ্ধিদীপ্ত এক শিশু। ওর মা সদা হাসিখুশি মেহরুন রুনি। পুত্রকে নিয়ে মাঝে মধ্যেই লেজার করাতে আসতেন। আমার ছেলে সামি এবং মেঘ একই বয়সের। রুনির লেজার করা চলতো আর ওরা দু’জনে দৌড়াতো, শিশুসুলভ দুষ্টুমি করতো, খেলতো, চকলেট ভাগাভাগি করে খেতো।
ফেরা যাক বড়দিনের সেই অনুষ্ঠানে। রুনি এসেছেন কিনা জানতে চাইলে সাগর জানালেন তার ডিউটি আছে তাই আসতে পারেননি। সাগর তখন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক। প্রায় ঘন্টা খানেক মেঘ ও সামি একসঙ্গে সোনারগাঁও হোটেলে খেলেছে। ওদের সাথে আমাদেরকেও দৌড়াদৌড়ি করতে হয়েছে! কে জানতো পুত্রকে নিয়ে এটাই ছিলো সাগরের শেষ বড় দিনে আসা।
আজ ২৫ ডিসেম্বর ২০১২। বড়দিন। এক বছর আগে মেঘ-সাগরের সাথে কাটানো সময়টা এখন শুধুই স্মৃতি। বড়দিন প্রতিবছর ফিরে আসবে। বাবা-মার হাত ধরে হাজারো শিশু বড়দিনে বাচ্চাদের অনুষ্ঠানে যাবে। আনন্দ করবে, খেলবে, খাওয়া-দাওয়া করবে, ঘুরবে, ছবি তুলবে। কিন্তু মেঘ আর কোনদিন সাগর-রুনির হাত ধরে বড়দিনের অনুষ্ঠানে যাবে না।
মেঘের সাথে বড়দিনের স্মৃতি হাতড়াতে গিয়ে হয়তো একটু বেশি গভীরে ঢুকে পড়া হয়ে গেছে! বড়দিন মানেই খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের আনন্দের দিন। অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও এই দিনটির আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়। এ দিনটিতে পাঠকের হূদয় আর ভারাক্রান্ত না করাই ভালো। তার জন্য আমাদের ভালবাসা থাকবে। মেঘের বুকে যেন নতুন সূর্য উদিত হয় এই কামনায় রইলো বড়দিনের ভালোবাসা।
