ময়নাতদন্ত সুরতহাল রিপোর্টের সঙ্গে মিল নেই জবানবন্দির!

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩৪
গত ৯ ডিসেম্বর অবরোধ চলাকালে পুরনো ঢাকায় নিরীহ পথচারী বিশ্বজিত্ দাস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামিদের জবানবন্দি এবং নিহতের ময়নাতদন্ত ও সুরতহাল রিপোর্টের তথ্যে অনেক গরমিল রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন খোদ তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ। এতে মামলার ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশংকা করছেন অপরাধ শাখার পুলিশ কর্মকর্তা ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা। তবে তদন্ত ঠিকভাবেই এগুচ্ছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একাধিক কর্মকর্তা। এদিকে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মিলি বিশ্বাসকে প্রধান করে গঠিত তিন সদস্যের কমিটি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করছেন। এ হত্যাকাণ্ডের সময় পুলিশের কোন ধরনের অবহেলা বা ব্যর্থতা রয়েছে কি-না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে প্রমাণিত হলে জড়িত পুলিশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার। ঘটনার সময় ওই এলাকায় কর্তব্যরত পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করলে বিশ্বজিেক হয়তো জীবন হারাতে হতো না- এমন দাবি করা হয়েছে তার পরিবারের পক্ষ থেকে। একই দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকেও। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ হত্যাকাণ্ডের সুরতহাল রিপোর্ট আনাড়ি হাতে আঞ্চলিক ভাষায় লেখা হয়েছে। রিপোর্টে দেয়া তথ্য আসামিদের পক্ষে যেতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বজিতের পিঠ ও কোমরের উপরের দিকে হালকা ফোলা। ডান হাতের বগলের নীচে আনুমানিক ৩ ইঞ্চি কাটা ও বাম পায়ের হাঁটুর নীচে জখমের চিহ্ন রয়েছে। অথচ ময়নাতদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, তার পেছনে একটি ‘স্টেবিং ইঞ্জুরি’ অর্থাত্ ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আঘাতে বিশ্বজিতের ধমনী কেটে গেছে। এছাড়া বাম পায়ের গোড়ালি থেতলানো ছিল বলে ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া আর কোন আঘাতের চিহ্নের কথা ময়নাতদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ নেই। অন্যদিকে এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত রফিকুল ইসলাম শাকিল, মাহফুজুর রহমান নাহিদ ও রাশেদুজ্জামান শাওন গত রবিবার আদালতে নিজেদের জড়িয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, তারা চাপাতি, ছোরা, লাঠি ও রড দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে বিশ্বজিেক হত্যা করেছেন। শাকিলের চাপাতির বেশ কয়েকটি আঘাত বিশ্বজিতের দেহে লেগেছে। এছাড়া রাজনের ছুরিকাঘাতের এবং অন্যদের লাঠি ও রডের আঘাতের কথা তারা বললেও এসব আঘাতের চিহ্নের কথা সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়নি। এসব প্রশ্নের কোন সদুত্তর কেউ দিতে পারেনি। এ প্রসঙ্গে ময়নাতদন্তকারী চিকিত্সক ডা. মো. মাকসুদ বলেন, তিনি বিশ্বজিতের লাশের ছবি তুলেছেন। ছবিতে প্রমাণ রয়েছে তার শরীরে কয়টি আঘাত রয়েছে। ময়নাতদন্তকালে যা পেয়েছেন তাই তিনি উল্লেখ করেছেন বলে দাবি করেন।