কক্সবাজারের চকরিয়ায় বনবিভাগের উচ্ছেদে ভিটেবাড়ি হারাতে বসেছে উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের ভিলেজারপাড়া বড়ঘোনা গ্রামের প্রায় ২ শতাধিক পরিবার। সামাজিক বনায়নের অজুহাতে বনবিভাগ এসব পরিবারকে উচ্ছেদের পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এঘটনায় গতকাল সকালে ওই এলাকার শত শত নারী-পুরুষ বনবিভাগের কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে উপজেলা পরিষদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এসময় তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে স্মারকলিপি প্রদান করে।
গ্রামের বাসিন্দা ইউছুপ নবী, ফরিদ আলম, গিয়াস উদ্দিন, আবুল বশর, মহসিনউদ্দিন, বজল আহমদ, নাছিমা আক্তার, সামসুন নাহার, নাজিমা আক্তার, সিরাজ খাতুন ও ঝিনুক বেগমসহ অনেকে সাংবাদিকদের জানান, তারা ১৯৯১ সালে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে গৃহহারা প্রায় ১৮০টি পরিবার এখানে এসে বসতি নির্মাণ করে। তারা এখানে প্রায় ২১ বছর ধরে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবনযাপন করে আসছে। স্থানীয় সমাজকর্মী নজরুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড়ের পর চকরিয়ার হারবাং, বরইতলী, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, ইলিশিয়া, বরইতলী, পেকুয়া, মগনামা, টৈটং, বারবাকিয়া, মহেশখালী, মাতারবাড়ী, ধলঘাট ও কুতুবদিয়া উপজেলা থেকে গৃহহারা এসব পরিবার আশ্রয় নেয় চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের চুনতী রেঞ্জের বরইতলী বনবিটের অধীন সরকারি রিজার্ভ বনভূমিতে। বর্তমানে এসব পরিবার সামাজিকভাবে অবস্থান সৃষ্টি করে এখানে গড়ে তুলেছেন মসজিদ-মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, বনবিভাগের লোকজন আর্থিক সুবিধা নিয়ে এখানে সামাজিক বনায়ন সৃষ্টি করে এসব পরিবার উচ্ছেদের জন্য পাঁয়তারা চালাচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার জাকির হোসেন জানান, এব্যাপারে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বনবিভাগের চুনতী রেঞ্জ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে এখনই কোন পরিবারকে উচ্ছেদ করা হবে না।
