নাশকতার মহাপরিকল্পনা জামায়াত-শিবিরের!

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩৭
যুদ্ধাপরাধের বিচার বাধাগ্রস্ত করতে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির সারাদেশে নাশকতার মহাপরিকল্পনা করেছে বলে জানতে পেরেছে গোয়েন্দা পুলিশ। সম্প্রতি শিবিরের শীর্ষস্থানীয় ২০ নেতা প্রযুক্তির সহায়তায় এই নাশকতার ছক তৈরি করেন। তারা মাঠ পর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে এই পরিকল্পনা নিয়ে গোপন বৈঠকও করেছেন বলে জানা গেছে । এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মোল্লা নজরুল ইসলাম। তিনি আরো জানান, গত ৩ দিনে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে জামায়াত-শিবিরের ৩৮ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা সাতটি ল্যাপটপ ঘেঁটে নাশকতা পরিকল্পনার এইসব তথ্য জানা গেছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে হরতালসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে পুলিশের ওপর চোরাগোপ্তা হামলা ও নানা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শনিবার রাত পর্যন্ত ঢাকা মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাজ্জাদ আলম খান ও সেক্রেটারি গোলাম কিবরিয়াসহ ৩৮ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে শিবিরের মহানগর পশ্চিমের ১২ থানার সভাপতি ও সেক্রেটারিও রয়েছেন। গ্রেফতারকৃতদের অনেকেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকার জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতা। এদেরকে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় রাজধানীর বিভিন্ন থানায় দায়ের করা মামলায় পৃথকভাবে ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডিবি। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ল্যাপটপ থেকে ছাত্রশিবিরের শীর্ষ ও মাঠ পর্যায়ের নেতাদের নামের তালিকা পাওয়া গেছে। আগামী ২০১৩ সালের শিবিরের কার্যক্রমের পরিকল্পনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে মাঠ পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের বায়োডাটা, সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় বায়তুলমাল (সংগঠন পরিচালনার চাঁদা), দাতাদের নাম-ঠিকানা, ইন্টানেটের মাধ্যমে গড়ে তোলা শিবিরের ডিজিটাল নেটওয়ার্কসহ নানা কৌশল সম্পর্কে জানা গেছে। ল্যাপটপে শিবির নেতাদের ইমেইল আইডিও পাওয়া গেছে। এসব আইডির মাধ্যমে তারা কেন্দ্রীয় নেতাদের ম্যাসেজ সারাদেশে ছড়িয়ে দিতেন। তবে অভিযান জোরদার করায় শিবির নেতাকর্মীরা বর্তমানে তাদের মোবাইল নম্বর ও বাসা পরিবর্তন করেছে বলে সূত্রটি জানায় । জিজ্ঞাসাবাদে ঢাকা মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাজ্জাদ আলম খান ও সেক্রেটারি গোলাম কিবরিয়া ডিবিকে জানান, সারাদেশে হামলা চালাতে জেলা-উপজেলা, এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ে তাদের নেতাকর্মীরা সক্রিয় রয়েছে। দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনের ম্যাসেজের মাধ্যমে তারা তথ্য আদান-প্রদান করেন। দ্রুত হামলা চালানোর জন্য ঢাকার প্রতিটি এলাকার নেতাকর্মীদের মোটর সাইকেলও দেয়া হয়েছে বলে তারা স্বীকার করেছেন।