বিচারাধীন মামলার রায় কী হবে তা নিয়ে মন্তব্য করায় আওয়ামী লীগ উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ও দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। গতকাল সোমবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেয়। সুরঞ্জিত সেনকে আগামী ২ জানুয়ারির মধ্যে আইনজীবীর মাধ্যমে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল আদেশে বলে, ২২ ডিসেম্বর ১৪ দলের সমাবেশে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ১৪ জন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীর বিচারের রায় চূড়ান্ত। আগামী বছর চিহ্নিত ১৪ যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি হবে। কেউ-ই যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে পারবে না। পরদিন ২৩ ডিসেম্বর দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় ১৪ দলের গণমিছিলে ঘোষণাঃ আগামী বছর ১৪ যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি শীর্ষক শিরোনামে প্রতিবেদনে এ বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে। আদেশে আরো বলা হয়, বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে তার এ মন্তব্য স্বাধীন ট্রাইব্যুনালের জন্য অমর্যাদাকর। এ ধরনের বক্তব্য আদালতের কাজকে বাধাগ্রস্ত করে। আদালতের রায়ের বিষয়ে কীভাবে এবং কোথা থেকে তথ্য পেয়েছেন সে বিষয়ে তাকে ব্যাখ্যা দিতে হবে। এর আগে এক আদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায়ের কাল্পনিক তারিখ বলা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেয় ট্রাইব্যুনাল।
আইনমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ
আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনেছেন বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এমপি। গতকাল ট্রাইব্যুনালে এ বিষয়ে সালাহউদ্দিন কাদেরের পক্ষে তার আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে আবেদন জমা দেন। ফখরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ট্রাইব্যুনাল-১-এর সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের সঙ্গে বেলজিয়াম প্রবাসী আইন বিশেষজ্ঞ আহমেদ জিয়াউদ্দিনের স্কাইপে সংলাপে দেখা গেছে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদও তার অংশ। আইনমন্ত্রী বিভিন্ন সময় বিচারকদের চাপ দিয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল-১ এর একজন বিচারককে পদত্যাগে বাধ্য করেছেন। এ জন্যই তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ জানিয়েছি। এর আগে জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার পৃথক দুটি অভিযোগ এনেছিলেন যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের আইনজীবীরা।
