বঙ্গভাষা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
১. নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও
ইংরেজি মাধ্যম পড়ুয়া ছেলে বা মেয়েটির সঙ্গে বাসাতেও ইংরেজিতে কথা বলেন যারা, তাদের মনে হয় - এভাবে ইংরেজিতে আরও দক্ষ হয়ে উঠবে ছেলে বা মেয়েটি, ভবিষ্যতের বৈতরণী পার হবে অনায়াসে। আলাদা করে অনেক পরিবারেই এখন জোর দেওয়া হয় ইংরেজি বলতে, শিখতে এবং যেখানে প্রয়োজন নেই, সেখানেও ব্যবহার করতে। কিন্তু এভাবে ধীরে ধীরে বাংলাটা হারিয়ে যায় শিশুটির জগত্ থেকে।
ক. বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক সনেট রচয়িতার নাম কী? ১
খ. ‘বঙ্গভাষা’ সনেটের অষ্টকে কোন ভাবটি বর্ণিত হয়েছে? ২
গ. “উদ্দীপকে বর্ণিত শিশুরা অচিরেই হারাবে বাঙালিত্ব এবং ‘বঙ্গভাষা’ কবিতাকে উপহাসই করবে”- কথাটি ব্যাখ্যা করো। ৩
ঘ. উদ্দীপকটি ‘বঙ্গভাষা’ কবিতার বিষয়বস্তুর সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত - বিচার-বিশ্লে¬ষণ করো। ৪
১নম্বর প্রশ্নের ‘ক’-এর উত্তর
বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক সনেট রচয়িতার নাম মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
১ নম্বর প্রশ্নের ‘খ’-এর উত্তর
কবিতাটির অষ্টকে প্রকাশ পেয়েছে কবির ভ্রান্তিজনিত আক্ষেপ ও অনুশোচনা।
‘বঙ্গভাষা’ কবিতার প্রথম আট চরণকে অষ্টক বলা হয়। প্রথম আট চরণে থাকে ভাবের ব্যঞ্জনা। এ কবিতায় অষ্টকের আট চরণে কবি তাঁর অনুভূতিকে নির্দিষ্ট ভাবকল্পনায় সমৃদ্ধ করেছেন। আক্ষেপ ও অনুশোচনার বিষয়টি এখানে উঠে এসেছে্
১ নম্বর প্রশ্নের ‘গ’-এর উত্তর
উদ্দীপকে শিশুদের মধ্যে বিদেশি ভাষা যে আশঙ্কাজনকভাবে প্রভাব ফেলেছে তা চিহ্নিত হয়েছে; যা থেকে তারা উত্তরণ না পেলে অচিরেই নিজস্ব সংস্কৃতিকে তারা অবজ্ঞা করবে।
‘বঙ্গভাষা’ কবিতায় প্রথম জীবনে বাংলা ভাষাকে অবজ্ঞা করে বিদেশি ভাষায় সাহিত্য রচনায় তত্পর হন। কিন্তু পরবর্তীকালে তাঁর ভুল ভাঙে। তিনি পুনরায় বাংলা ভাষায় সাহিত্য রচনা শুরু করেন। ‘বঙ্গভাষা’ কবিতায় কবি প্রতীকীভাবে উল্লেখ করেছেন, তাঁর মাতৃভাষা তথা বাংলা ভাষা অনেক ঐশ্বর্যময়
উদ্দীপকের আলোকে বলা যায়, আমরা বাঙালি, বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। মাতৃভাষায় কথা বলে আমরা আমাদের মনের পিপাসা মেটাই। কিন্তু বর্তমানে পাশ্চাত্য সাহিত্যে ছেলে-মেয়েদেরকে শিক্ষিত করে তোলার প্রতিযোগিতায় পড়ে অভিভাবকেরা ইংরেজি ভাষার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তারা নিজের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে বিদেশি শিক্ষায় শিক্ষিত করতে ব্যস্ত ছেলে-মেয়েদের। উদ্দেশ্য, কর্মজীবনে যেন তারা সফলতা অর্জন করতে পারে। কিন্তু এ ইংরেজি ভাষার প্রভাবে বাংলা ভাষা তাদের কাছ থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছে। মাতৃভাষায় কথা বলতেই তারা ভুলে যাচ্ছে। মাতৃভাষার গুরুত্ব কতটা এ সম্পর্কে তাদের কোনো জ্ঞান নেই এবং এ সম্পর্কে তাদের বিশদ জানানোর কোনো প্রচেষ্টাও চলছে না। তারা তাদের নিজস্ব ভাষা ইংরেজি এটাই ভেবে নিয়েছে। তাদের মধ্যে থেকে বাঙালি ভাবটাও আস্তে আস্তে দূরে সরে যাচ্ছে। কবিতার মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে মাতৃভাষা অবহেলার রূপটি। কবি তার মাতৃভাষাকে অবহেলা করেছেনবলে তেমনভাবে কোনোসাহিত্যেই সফলতা পাননি। উদ্দীপকের সাথে কবিতার আলোচনা কওে এ কথা বলা যায়, অবস্থা চলতে থাকলে মাতৃভাষার প্রতি প্রেম বা শ্রদ্ধাবোধ এক পর্যায়ে উপহাসের বিষয় হয়ে দেখা দেবে তাদের কাছে। মাতৃভাষার মধ্যেই সকল সম্ভাবনা নিহিত ‘বঙ্গভাষা’ কবিতার এ মূল বক্তব্যটিই তখন হাস্যকর বলে পরিগণিত হবে আত্মপরিচয়হীন নতুন প্রজন্মের কাছে। উক্তিটি তাই যথার্থ।
১ নম্বর প্রশ্নের ‘ঘ’-এর উত্তর
মাইকেল মধুসূদন দত্ত-এর ‘বঙ্গভাষা’ কবিতাটিতে কবি-মনের প্রগাঢ় আত্মোপলব্ধির অকপট স্বীকারোক্তি পাওয়া যায়। এর চৌদ্দোটি চরণের শব্দে শব্দে ছন্দে ছন্দে দেশপ্রেমের আবেগ জড়িয়ে আছে। উদ্দীপকের সাথে কবিতার মিল দেখা যায়।
‘বঙ্গভাষা’ কবিতায় কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ব্যথাদীর্ণ চিত্তের হাহাকার ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয়েছে, সে সঙ্গে মাতৃভাষা ও সাহিত্যের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগও প্রকাশ পেয়েছে। প্রথম জীবনে কবি মাতৃভাষার প্রতি নিদারুণ উপেক্ষা প্রদর্শন করে ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য রচনায় মনোনিবেশ করেছিলেন।
উদ্দীপকে একটি লক্ষ্যভ্রষ্ট প্রজন্মের প্রবণতা চিত্রিত হয়েছে, যা বাংলা ভাষা সম্পর্কে আশঙ্কার জন্ম দেয়। প্রথম জীবনে মাইকেল মধুসূদন বাংলা ভাষা থেকে বিচ্যুত হয়েছিলেন ঠিকই কিন্তু নিজ উপলব্ধির জোরেই ফিরে আসতে সমর্থ হয়েছিলেন। অথচ উদ্দীপকে সে রকম কোনো সম্ভাবনার কথা নেই।
পরবর্তীকালে কবি মাতৃভাষার সেবায় আত্মনিয়োগ করেন এবং অনুশোচনায় দগ্ধ হন। তিনি বাংলা ভাষার ঐশ্বর্য ও সাহিত্য-সম্ভাবনাকে উপলব্ধি করে এ ভাষায় কালজয়ী অবদান রাখতে সমর্থ হন। প্রথমে তিনি যেভাবে ভাষার প্রতি অবিচার করেছেন তাতে কওে দেখা গেছে তারঅবস্থা কতটুকু খারাপ হয়েছিলো। উদ্দীপকের সাথেও একথা বলা যায় যে, ইংরেজি মিডিয়ামে পড়ে বর্তমান শিক্ষার্থীদের যে অবস্থা তাতে তদারা অদূরে মারাত্মক হুমকির মধ্যে পড়বে এবং সমাজ ও দেশের বোঝা ছাড়া আর কিছু হতে পারবে না। তাই বলা যায় উদ্দীপকের সাথে বঙ্গভাষা কবিতার মিল রয়েছে।
