বাংলাদেশ ব্যাংকের বার বার নির্দেশনার পরও মেয়াদোত্তীর্ণ বিলের অর্থ পরিশোধ করছে না কয়েকটি ব্যাংক। মেয়াদ উত্তীর্ণ সকল বিল পরিশোধ করার জন্য আবারো এক সপ্তাহের সময় দেয়া হয়েছে ব্যাংকগুলোকে। অর্থাত্ চলতি মাসের ৩১ ডিসেম্বরের আগে কোনো ব্যাংক বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে। গত সোমবার বিশেষায়িত ও বেসরকারি খাতের ১২টি ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করে এ নির্দেশ দেয়া হয় বলে জানা গেছে। এর আগে গত সপ্তাহেও রাষ্ট্রীয় মালিকানার চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করে একই নির্দেশনা দেয়া হয়েছিলো।
জানা গেছে, ওই ১২ ব্যাংকের প্রত্যেকের কাছে এক কোটি ডলারের বেশি পরিমাণ অর্থ বকেয়া রয়েছে। এসব ব্যাংক হলো, বিশেষায়িত খাতের বাংলাদেশ কৃষি ও বেসিক ব্যাংক, বেসরকারি খাতের যমুনা, ব্যাংক এশিয়া, মার্কেন্টাইল, শাহজালাল ইসলামী, এক্সিম, প্রাইম, স্ট্যান্ডার্ড, প্রিমিয়ার, ন্যাশনাল, ডাচ-বাংলা ও সাউথইস্ট ব্যাংক। এর আগে গত সপ্তাহে রাষ্ট্রীয় মালিকানার সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের কাছে অন্য ব্যাংকের গ্রাহকের সকল পাওনা ডিসেম্বরের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দেয়া হয়। কোনো ব্যাংক চলতি সপ্তাহের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ বকেয়া পরিশোধে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত হিসাব থেকে অন্য ব্যাংকের পাওনা পরিশোধ করা হবে। এছাড়া এর নেতিবাচক প্রভাব ব্যাংকের ক্যামেলস রেটিংয়ের ‘এম’-এ গিয়ে পড়বে বলে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে নির্বাহী পরিচালক আহসান উল্লাহর সভাপতিত্বে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মাসুদ বিশ্বাসসহ ১২টি ব্যাংকের আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিভাগের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে কোনো কোনো ব্যাংকের প্রতিনিধি বলেছেন শাখা পর্যায়ে অসচেতনতার কারণে তাদের কাছে অনেক ভুয়া বিল ঢুকে গেছে। বিশেষ করে সোনালী ব্যাংকের স্বীকৃতি দেয়া বিলের বেশিরভাগই ভুয়া। এছাড়া অন্য অনেক ব্যাংকেরও ভুয়া বিল এসে গেছে। এসব বিষয়ে তারা যাচাই-বাছাই করছে। এটি শেষ না করে এখনই বিল পরিশোধ করা হলে সেটি ব্যাংকের ওপর চাপ হবে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব বিলের বেশিরভাগই বেশ আগে থেকেই বকেয়া আছে। এতো দিনে যাচাই-বাছাই শেষ করা সম্ভব ছিলো। সেটি যেহেতু হয়নি এখন আর সময় দেয়া হবে না।
আমদানিকারকের ব্যাংকের স্বীকৃতি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে কমিশনের বিনিময়ে রফতানিকারকের ব্যাংক বিল কেনে যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি। এর মাধ্যমে আমদানিকারকের ব্যাংকের দায় সৃষ্টি হয়। সে মোতাবেক মোট ৩৯টি ব্যাংকের এই বিল বকেয়া রয়েছে। বিভিন্ন গ্রাহকের সাড়ে ৮ হাজার বিলের বিপরীতে বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা।
