বীমা সংক্রান্ত শিক্ষা প্রসারের দাবি বিআইএ’র

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:০১
বীমা খাতে দক্ষ জনশক্তি গঠনে বীমা একাডেমীকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ’র (ইন্সুরেন্স ডেভেল্পমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরী অথরিটি) অধীনে ন্যস্ত করে এর কার্য পরিধি বৃদ্ধি করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইন্সুরেন্স এসোসিয়েশন (বিআইএ)। বিআইএ সভাপতি শেখ কবির হোসেন বলেন, দেশের অর্থনীতি বড় হওয়ার সাথে সাথে বীমা খাতের চাহিদাও বাড়ছে। এ অবস্থায় বীমা খাতের জনশক্তিকে আরও দক্ষ হতে হবে। এজন্য তাদের জন্য সময়োপযোগী শিক্ষা প্রদান করতে হবে। সোমবার বিআইএ’র নিজস্ব ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিআইএ’র সহ- সভাপতি আহসানুল ইসলাম টিটু ও নির্বাহীর কমিটির সদস্যরা। আগামী দুই বছরের (২০১৩ ও ১৪) জন্য বীমা খাতের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও প্রস্তাবনা তুলে ধরে শেখ কবির হোসেন বলেন, বীমা খাতের জনশক্তির দক্ষতা উন্নয়নে বীমা একাডেমীকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরো শক্তিশালী ও এর সিলেবাসকে যুগোপযোগী করা প্রয়োজন। জনশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিআইএ’র পদক্ষেপ তুলে ধরে শেখ কবির বলেন, দেশে দক্ষ বীমা জনশক্তি সৃষ্টির জন্য ইতিমধ্যে বিআইএ বিদেশী বীমা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এছাড়া বীমা বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রথম বারের মতো একটি আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজন করা হচ্ছে। সেমিনারে দেশি বিদেশি বিশেষজ্ঞদের আলোচনা ও অভিজ্ঞতা থেকে দেশের বীমা সংশ্লিষ্টরা ফলপ্রসু হবেন বলে আশা করি। শেখ কবির হোসেন আরও বলেন, বর্তমানে তৈরী পোষাক শিল্পগুলো মাত্র ২০ জনের জন্য গ্রুপ বীমা করে। প্রতিষ্ঠানের নিজেদের নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি তৈরী পোষাক শিল্প ইউনিটের ভবন, যন্ত্রপাতি ও এর সঙ্গে নিয়োজিত সকল শ্রমিককে বাধ্যতামূলকভাবে বীমা পলিসির আওতায় আনা প্রয়োজন। মৃতুজনিত ক্ষতিপূরনের জন্য বিদ্যমান ১ লাখ টাকা অত্যন্ত কম। তাই একে ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করার দাবি জানান তিনি। এছাড়া আহত শ্রমিকদের স্বাস্থ্য বীমা বাধ্যতামূলক করার উপর জোর দেন তিনি। প্রবাসী শ্রমিকদের বীমা পলিসির আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়ে শেখ কবির বলেন, বিদেশে গিয়ে আমাদের জনশক্তিরা বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে দেশের জন্য বৈদিশিক মুদ্রা নিয়ে আসেন। তাই তাদের নিরাপত্তার জন্য আমাদের পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। বিআইএ সভাপতি বলেন, স্বল্প সম্পদের এই দেশে জনগুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোকে ঝুঁকির মধ্যে রাখা মোটেও সচেতনতার কথা নয়। তাই যমুনা, মেঘনা, গোমতী নদীরে সেতু এবং বঙ্গ ভবন ও সংসদ ভবনসহ অন্য সকল বৃহত্ অবকাঠামোগুলোকে বীমা পলিসির আওতায় আনার প্রয়োজন।