ধান পাটের পর এবার তুলার দর পতন

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:০২
ধান পাটের পর এবার তুলার দর পতনে চাষির মাথায় হাত, ক্রেতারও অভাব। তুলার ফলন ও দাম কম। গত বছরের চেয়ে এবার সরকার তুলার দাম মণ প্রতি ৫শ’ ৬০ টাকা কম ধার্য করেছে। দেশে উত্পাদিত তুলার সামান্য পরিমাণ তুলা উন্নয়ন বোর্ড বীজের জন্য ক্রয় করে। সিংহ ভাগ কিনে থাকে বেসরকারি জিনার কোম্পানিগুলো। তারা বীজ তুলা কিনে মেশিনে আঁশ ও বীজ পৃথক করে বস্ত্রকলগুলোর কাছে বিক্রি করে থাকে। চলতি মৌসুমে (২০১২-২০১৩) দেশে তুলা চাষ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। ফলে উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রাও অর্জিত হবে না। বৈরি আবহাওয়া ও পোকা মাকড়ের আক্রমণে ফলন কম হচ্ছে। তুলা উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানান যায়, এবার যশোর জোনে তুলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৪শ’ হেক্টর, চাষ হয়েছে ২৭শ’ ২৪ হেক্টরে। ঝিনাইদহ জোনে ৫ হাজার হেক্টরের স্থলে ৪ হাজার ১শ’ ৩৯ হেক্টরে, কুষ্টিয়া জোনে চাষ লক্ষ্যমাত্রা ৫ হাজার হেক্টরের স্থলে ৪ হাজার ১শ’ ১০ হেক্টরে ও চুয়াডাঙ্গা জোনে ৫ হাজার হেক্টরে চাষ লক্ষ্যমাত্রার স্থলে ৪ হাজার ১শ’ ৪৯ হেক্টরে তুলা চাষ হয়েছে। রাজশাহী জোনে দু’ হাজার হেক্টরে চাষ লক্ষ্যমাত্রার স্থলে ১৫শ’ ৭৮ হেক্টরে, বগুড়া জোনে চাষ লক্ষ্যমাত্রা ১৫শ’ হেক্টরের স্থলে ১১শ’ ৮৯ হেক্টরে, রংপুর জোনে দু’ হাজার হেক্টরে চাষ লক্ষ্যমাত্রার স্থলে ১৬শ’ ৩ হেক্টরে, ঠাকুরগাঁ জোনে দু’ হাজার হেক্টরে চাষ লক্ষ্যমাত্রার স্থলে ১৫শ’ ৯৬ হেক্টরে, ঢাকা জোনে ১৫শ’ হেক্টরে চাষ লক্ষ্যমাত্রার স্থলে এক হাজার ১০ হেক্টরে এবং ময়মনসিংহ জোনে দু ’ হাজার হেক্টরের স্থলে ১৫শ’ ৩৯ হেক্টরে তুলা চাষ হয়েছে। তিন পাহাড়ি জেলায় ৬শ’ হেক্টরে সমভূমির তুলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। চাষ হয়েছে ৩শ’ ৬৩ হেক্টরে। পাহাড়ি তুলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৭ হাজার হেক্টরে। চাষ হয়েছে ১৫ হাজার ৭শ’ ৫৬ হেক্টরে। সমভূমির তুলার উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছিল এক লাখ ৬৪ হাজার ৩শ’ ২০ বেল এবং পাহাড়ি তুলার উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৫ হাজার ৬শ’ ৮০ বেল। এবার বৈরি আবহাওয়ার কারণে তুলা চাষ দারুণ ভাবে ব্যাহত হয়। আষাঢ় মাসে আগাম চাষ করা তুলার বেশি ক্ষতি হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসের বৃষ্টিতে এক দফা তুলার ক্ষতি হয়। এরপর নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে বৃষ্টিতে বেশি ক্ষতি হয়। ফুটা বলগুলো পচে নষ্ট হয়ে গেছে। তাছাড়াও অফুটা বল ঝরে পড়ে। যে কারণে ফলন কম হচ্ছে। গত বছর বিঘা প্রতি গড় ফলন ১৪ - ১৫ মণ হয়। এবার ৬-৭ মণ ফলন হচ্ছে। ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সারাতলা গ্রামের তুলা চাষি অহিনুর রহমান জানান, ১৯৭৮ সাল থেকে তারা তুলা চাষ করে আসছে। সুপ্রিম সিড, লালতীর ও এসিআই কোম্পানির হাইব্রিড তুলা বীজ কিনে চাষ করেছেন। বল ছোট হচ্ছে এবং পচে যাচ্ছে। অন্যবার বিঘা প্রতি ১৫-১৬ মণ করে ফলন পেয়েছেন। এবার বিঘাতে ৮ মণ ফলন হচ্ছে। চাষের ব্যয় বাড়লেও দাম কম ধার্য করেছে সরকার। ক্রেতা মিলছে না। বিক্রির ১৫- ২০ দিন পর দাম পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি জানান। হুদা শ্রীরামপুর গ্রামের চাষি নজির উদ্দিন জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এবার তুলার ফলন কম হচ্ছে। বিঘাতে ৬-৭ মণ ফলন হচ্ছে। তারপর দামও কম। চাষির লোকসান হবে। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প পরিচালক মোঃ আকতারুজ্জামান জানান, এক লাখ ৩০ হাজার বেল সমভূমির এবং ১৫ হাজার বেল পাহাড়ি তুলা উত্পাদনের আশা করছে বোর্ড। এক বিঘা জমিতে তুলা চাষে কম করে ১০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। অপরের জমি লিজ নিয়ে চাষ করলে আরো ৫ হাজার টাকা বেশি ব্যয় হয় বলে চাষিরা জানান।। গত বছর প্রতি মণ বীজ তুলার দাম প্রথমে ২৫শ’ ২০ টাকা ধার্য করা হয়েছিল। পরে দাম বাড়িয়ে ২৮শ’ টাকা করা হয়েছিল। এরপর কমিয়ে ২৬শ’ টাকা করা হয়েছিল। এবার দাম ধার্য করা হয়েছে ২২শ’ ৪০ টাকা। এ দামে তুলা বিক্রি করে চাষির উত্পাদন খরচ উঠছে না। বেসরকারি ক্রেতারা তুলা কিনছে না। উত্পাদিত তুলা চাষির ঘরে মজুত রয়েছে। বিক্রি করতে পাছে না। তুলা উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গার্মেন্টস শিল্পের ব্যাপক প্রসার ও লোক সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য দেশে তুলার চাহিদা প্রতি বছর বাড়ছে। বর্তমানে তুলার বার্ষিক চাহিদা ৫০ লাখ থেকে ৫৫ হাজার বেল। মোঃ আকতারুজ্জামান জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার দাম কমেছে। প্রতি পাউন্ড তুলার বর্তমান দাম হচ্ছে ৭৫ সেন্ট। এর প্রভাব দেশের বাজারে পড়েছে বলে তিনি জানান।