‘২০১৩ সালে ডেল সেরা সার্ভিস কোম্পানি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চায়’

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৪২
‘বাংলাদেশ মূলত একটি ক্ষুদ্র ও মাঝারী ব্যবসার ক্ষেত্র। আর এখানে এশিয়ার ১ নম্বর কম্পিউটার কোম্পানি হিসেবে আমরা আগামী বছর ডেলকে সেরা সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে উন্নীত করব। ডেলই একমাত্র এন্ড-টু-এন্ড সলিউশন কোম্পানি। তাই সব ধরনের গ্রাহককেই আমরা আমাদের টার্গেট কাস্টমার হিসেবে বিবেচনা করে থাকি’, বলছিলেন ডেল বাংলাদেশের প্রধান সোনিয়া বশির কবির। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্ পিসি নির্মাতা এবং বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘ডেল’ আমাদের দেশে যাত্রা শুরু করে ‘ডেল বাংলাদেশ’ নামে। আর বিশ্বসেরা এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে আমাদের দেশে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন সোনিয়া বশির কবির। সম্প্রতি তার সাথে কথা হয় বাংলাদেশের বাজারে ডেলের পণ্য, সেবা, সলিউশন এবং দেশের বাজারে ডেলের ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে। সোনিয়া কবির বশির জানান, দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে ডেল বর্তমানে রয়েছে শীর্ষস্থানে। সম্প্রতি প্রযুক্তি বাজার গবেষণা এবং বিশ্লেষক সংস্থা আইডিসি তাদের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের বাজারেও ডেল’র পারফরম্যান্স অত্যন্ত ভালো বলেই জানান তিনি। বাংলাদেশে ডেল’র প্রধান ক্রেতার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ সরকার এবং টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে এসব বড় বড় প্রতিষ্ঠানের বাইরে ডেল এখন ক্ষুদ্র এবং মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকে পড়েছে এবং এসব প্রতিষ্ঠানে তাদের ব্যবসাকে প্রসারিত করতে ‘গো দ্য মার্কেট স্ট্র্যাটেজি’ নামে বিশেষ কর্মসূচীও চালু করেছে এই মাসেই। তাতে তারা সাড়াও পাচ্ছে তারা। সোনিয়া জানান, ‘হোম ইউজার থেকে শুরু করে কর্পোরেট ইউজার পর্যন্ত সকলের কাছেই আমরা আমাদের সেবাকে পৌঁছে দিতে চাই। আমাদের পণ্য দুইভাগে বিভক্ত—ভোক্তা পর্যায়ের এবং বাণিজ্যিক। বাংলাদেশে ১৬ কোটি মানুষের প্রযুক্তি পণ্যের বাজার রয়েছে। আমরা এই বাজারে ভোক্তা পর্যায়ে কাজ করছি এবং সময়ের সাথে সাথে এই বাজার বেড়েই চলেছে। আর তাই ভোক্তা পর্যায়ের পণ্য ও সেবার উপরেই ডেল অধিক পরিমাণে বিনিয়োগের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।’ তিনি জানান, দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে ভোক্তা এবং বাণিজ্যিক উভয় পণ্যের বাজারেই ডেল রয়েছে শীর্ষে। বিভিন্ন পর্যায়ের গ্রাহকের জন্য পণ্য ও সেবার কথা বলতে গিয়ে সোনিয়া জানান, ‘বেশিরভাগ মানুষেরই একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে ডেল কেবলই একটি ডেস্কটপ ও ল্যাপটপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু প্রকৃত অর্থে ডেল ‘একটি এন্ড-টু-এন্ড হার্ডওয়্যার সলিউশন প্রোভাডার’। অর্থাত্, ভোক্তা পর্যায়ে বিভিন্ন হার্ডওয়্যার সলিউশনও প্রদান করে থাকে ডেল।’ তিনি জানান, ডেস্কটপ বা ল্যাপটপের বাইরেও সার্ভার, সুইচ, রাউটার, স্টোরেজ এবং প্রজেক্টর, ব্যাটারি, প্রিন্টার, মনিটরের মতো পেরিফেরালও বিক্রি করে থাকে ডেল। ডেলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে আইবিএম, এইচপি, সিসকো, ইএমসি প্রভৃতি। এসব প্রতিষ্ঠানের সবগুলোই বাংলাদেশের বাজারেও রয়েছে এবং তাদের সাথে সাফল্যের সাথেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালিয়ে যাচ্ছে ডেল। সোনিয়া কবির বলেন, ‘হার্ডওয়্যার সলিউশনের জন্য আপনাকে স্টোরেজের জন্য ইএমসি, সার্ভারের জন্য আইবিএম এবং সুইচের জন্য নির্ভর করতে হয় সিসকোর উপর। এই অবস্থায় কোনো সমস্যা হলে কিন্তু একেক ধরনের সমস্যার সমাধানের জন্য আপনাকে ছুটতে হবে একেক প্রতিষ্ঠানের কাছে। এই ক্ষেত্রে ডেল সবার চাইতে এগিয়ে। কেননা, ডেল একটি ওয়ান-স্টপ সলিউশন সেন্টার। ডেল থেকে কোনো পণ্য বা সেবা গ্রহণ করলে একটিমাত্র কল করলেই আপনার সব সমস্যা সমাধানের জন্য প্রস্তুত ডেল।’ সোনিয়া কবির বশির জানান, সময়টা এখন ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের। অন্য সব প্রতিষ্ঠান যখন ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েছে, ডেলও দূরে নেই ক্লাউড কম্পিউটিং থেকে। ডেলও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। তবে বাংলাদেশে ডেলের ক্লাউড কম্পিউটিং সেবা পেতে আরও সময় লাগবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য এই সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের কোনো আলাদা আলাদা সফটওয়্যার বা হার্ডওয়্যার প্রয়োজন নেই। আমাদের প্রয়োজন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা। ডেলের পক্ষ থেকে আমাদের দেশে ক্লাউড কম্পিউটিং চালু হতে আরও একটু সময় লাগবে। এখানে প্রথমে একটি ব্যবসায়িক মডেল দাঁড় করতে হবে। তারপরেই আসবে ক্লাউড কম্পিউটিং।’ কেবল প্রযুক্তি পণ্য বা সেবাই নয়, বিভিন্ন প্রযুক্তি পণ্যের বিক্রয়োত্তর সেবাটিও বাংলাদেশে পৌঁছে দিচ্ছে ডেল। প্রযুক্তি পণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান কম্পিউটার সোর্সের মাধ্যমে তারা গ্রাহক পর্যায়ে বিক্রয়োত্তর সেবা প্রদান করছে। সোনিয়া কবির বশির জানান, ‘সার্ভার, স্টোরেজ বা সুইচ—সব ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ ব্যবসা করে যাচ্ছে ডেল। আমাদের গ্রাহকদের মধ্যে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। তাদের মধ্যে কোনো ব্যাংক যদি আমাদের কোনো পণ্য বা সেবাতে সমস্যার মুখোমুখি হয়, তাহলে সেই সমস্যা সমাধান করতে কোনোভাবেই দেরি করা যাবে না। এসব সমস্যার তাত্ক্ষণিক সমাধান প্রয়োজন। এন্টারপ্রাইজ পর্যায়ের পণ্য ও সেবায় বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করতে আমরা ডিএসপি (ডেল সার্ভিস প্রোভাইডার) খাতে বিনিয়োগ করতে যাচ্ছি। আমাদের এখানেও সার্ভিস টেকনিশিয়ানদের নিয়ে সার্ভিস টিম তৈরি করা হবে। থাকবে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। আর এর মাধ্যমে আমরা সপ্তাহের সাত দিনেই ২৪ ঘণ্টা সেবা প্রদান করতে পারব। ডেলের সাথেই থাকুন। কারণ আমাদের সেরাটি এখনও আমরা প্রদান করতে পারিনি।’ বাংলাদেশে ডেল নানাদিকে তাদের সেবা যেমন ছড়িয়ে দিচ্ছে, তেমনি সামাজিক বিভিন্ন কাজেও তারা বাড়িয়ে দিয়েছে সহযোগিতার হাত। সোনিয়া কবির বশির বলেন, ‘আমরা মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সাথে কাজ করছি। আমরা সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এমন ধরনের সামাজিক কল্যাণ কর্মসূচীর সাথে সম্পৃক্ত হতে চাই যা প্রকৃত অর্থেই মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসবে। আমাদের অনেক পরিকল্পনাই রয়েছে।’ এসব প্রকল্প একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে সেসব সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানাননি তিনি। তবে সময় হলে তারা সংবাদ মাধ্যমগুলোর সহায়তায় তাদের সব প্রকল্প সম্পর্কে সবাইকে অভিহিত করবেন বলেই জানান তিনি। সোনিয়া কবির বলেন, ‘আমাদের পণ্যের পসরা সমৃদ্ধ করতে এবং গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগের জন্য সব ধরনের সম্ভাব্যতা যাচাই করে যাচ্ছে ডেল। আমরা আত্মবিশ্বাসী, বাজারে আমাদের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বিদের সাথে আমরা আরও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা উপহার দিতে পারব। আর আমাদের বাজারও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।’ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সাফল্য ঈর্ষণীয় উল্লেখ করে সোনিয়া কবির বলেন, ‘বাংলাদেশ সবসময়ই সাফল্য লাভ করেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার যে প্রক্রিয়া শুরু করেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, তাতে ডেল ইতিবাচক ভূমিকা রেখে চলবে।’ বাংলাদেশে ডেল কী পরিমাণ ব্যবসা করে চলেছে, সে বিষয়ে সোনিয়া কবির সঠিক কোনো তথ্য না জানালেও বিভিন্ন পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, বাংলাদেশে ডেল প্রতিবছর প্রায় ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ব্যবসা করে চলেছে। বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি বাজারে ডেলের অবস্থান ক্রমান্বয়ে আরও সুদৃঢ় হবে, এমনটাই আশাবাদ সোনিয়া কবির বশিরের।