কক্সবাজার-মহেশখালী ফেরিঘাটের ইজারা প্রথা বাতিল হওয়ায় এই খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। খাস কালেকশনের আড়ালে সম্প্রতি টোল আদায়ের দায়িত্ব আবারও প্রভাবশালীদের কাছে দেয়ায় এ নিয়ে বোট মালিকদের সাথে চরম দ্বন্দ্ব-সংঘাত দেখা দিয়েছে।
২০১০ সালের ১৩ এপ্রিল বাংলা ১৪১৭ সালের জন্য ঘাটটি সর্বোচ্চ দরে ইজারা পেয়েছিলেন মহেশখালীর ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম। ঘাটটির ইজারা বাবদ সরকার মোট ১ কোটি ২৩ লাখ ৯০ হাজার টাকার রাজস্ব পেয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে হাইকোর্টের আদেশে ইজারা বাতিল করা হয়। ইজারা বাতিলের জন্য হাইকোর্টে ‘জনস্বার্থে’ মামলাটি করেছিলেন মহেশখালী পৌরসভার বর্তমান মেয়র মকছুদ মিয়া।
ঘাট পরিচালনায় নানা অনিয়ম নিয়ে বোট মালিক ও মেয়রের লোকদের মধ্যে প্রায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে উল্লেখ করে তারা আরো বলেন, কথিত ইজারাদারের অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে বোট মালিক সমিতির নেতারা প্রায়ই শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হচ্ছেন।
সম্প্রতি পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়েছে দাবি করে তারা বলেন, ঘাট পরিচালনার দায়িত্ব থেকে মহেশখালীর মেয়রকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করা না হলে বোট মালিক সমিতি নেতৃবৃন্দ শীঘ্রই কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করবে।
যদিও খাস কালেকশন শুরু হওয়ার পর এর কোন সুফল জনগণ পায়নি বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
ইজারা প্রথা বাতিলের কারণে মহেশখালী ফেরিঘাট থেকে রাজস্ব আয় প্রায় অর্ধেকে নেমে আসার কথা স্বীকার করে কক্সবাজারের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) খোন্দকার জহিরুল ইসলাম বলেন, সর্বশেষ ইজারায় ফেরিঘাটটির সর্বোচ্চ দর উঠেছিল প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা। কিন্তু আদালতের নির্দেশে খাস কালেকশন শুরু হওয়ার পর ২০১১-১২ অর্থসালে রাজস্ব আদায় হয়েছে মাত্র ৬৬ লাখ ৭ হাজার ১৮৫ টাকা।
