গৌরনদী হাইওয়ে থানা-পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কারণে মহাসড়কে অপরাধ প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাইওয়ে পুলিশ অপরাধ দমনের পরিবর্তে জড়িয়ে পড়েছে সড়কে চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে।
একাধিক সূত্র জানায়, গত ২৬ নভেম্বর রাত সাড়ে আটটার দিকে হাইওয়ে থানার সামনে একটি গ্রুপ নির্দয়ভাবে কুপিয়ে আহত করে প্রতিপক্ষ গ্রুপের রুমান (২২), ফেরদৌস (২০) ও হীরা (২২) নামক ৩জন ছাত্রলীগকর্মীকে। তাদের রক্তাক্ত দেহ দীর্ঘ সময় পড়ে থাকে হাইওয়ে থানার সম্মুখস্থ মহাসড়কের পাশে। পরের দিন সকালে রুমান মারা যায়। ফেরদৌস পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হামলাকারীরা ওই সময় হাইওয়ে থানার সামনে দিয়ে আগ্নেয় অস্ত্র নিয়ে ছোটাছুটি করে। গুলি ও বোমার শব্দে গোটা এলাকা প্রকম্পিত হয় তারপরও পুলিশের কোন ভূমিকা ছিল না। অথচ গৌরনদী হাইওয়ে থানায় ১জন সহকারী পুলিশ সুপার, ১জন ইন্সপেক্টর, ১ জন এসআই, ১ জন এএসআই, ২ জন হাবিলদার, ১ জন নায়েক ও ২০ জন কনেস্টবল থাকা সত্ত্বেও কর্তব্য তো দূরের কথা তারা ন্যূনতম মানবিক দায়িত্বও পালন করেননি।
গত ১৮ নভেম্বর দুপুরে হাইওয়ে থানার সামনের একটি সেলুনের দোকানের পিছনে একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। ওইদিন বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সড়কপথে বরিশাল যাচ্ছিলেন। বোমার বিকট শব্দে আতংকিত হয়ে পড়েছিল পথচারী ও বাসস্ট্যান্ডের ব্যবসায়ীরা। ১১ ডিসেম্বর ভোর রাতে হাইওয়ে থানা থেকে মাত্র কয়েকশ’ গজ দূরে গাছ ফেলে একটি চালবাহী ট্রাকে অগ্নিসংযোগ করে ড্রাইভারের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। ১৭ ডিসেম্বর রাত সাড়ে আটটার দিকে গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডের দক্ষিণ পাশে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সোহেল গোমস্তার মোটরসাইকেল, একটি মাইক্রোবাসে (ঢাকা মেট্রো-ছ- ১৪-৭০৫৪) এসে ডিবি পুলিশের পরিচয়ে থামিয়ে সোহেলের হাতে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে মাইক্রেবাসে তোলে। এ সময় অপহরণকারীরা সোহেলের ব্যবহূত মোটর সাইকেলটি মাইক্রোবাসে তুলতে গেলে তার ডাক-চিত্কারে পথচারীরা এগিয়ে এসে ধাওয়া করে মাইক্রোবাসসহ ড্রাইভারকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। গত ২০ দিনে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী এলাকায় পর পর কয়েকটি আইন-শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে এলাকার লোকজনদের ক্ষোভ বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গৌরনদীতে একটি পূর্ণাঙ্গ হাইওয়ে থানা থাকা সত্ত্বেও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কারণে মহাসড়কে অপরাধ প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। পুলিশ মহাসড়কের নিরাপত্তা পাহারা দেয়ার পরিবর্তে অবৈধ যানবাহনের চালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের কাজে সর্বদা ব্যস্ত থাকে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। মহাসড়কে ভটভটি, নসিমন, করিমন, ট্রলি চলাচলে সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তা সত্ত্বেও মাসোহারার বিনিময়ে পুলিশ বাধা না দিয়ে সহায়তা করছে। এ কারণে মহাসড়কে দুর্ঘটনা বাড়ছে, ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে জান-মালের। গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকা - বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদীর বাটাজোর নামক স্থানে একটি নছিমনের ধাক্কায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাঙামাটি জেলার পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ইলিয়াছ কবিরের ব্যবহূত একটি প্রাইভেট কার।
গৌরনদী হাইওয়ে থানা-পুলিশ, পুলিশ কর্মকর্তার গাড়ির ক্ষতিপূরণ বাবদ ৯ হাজার টাকা আদায় করে তাকে নসিমনসহ ছেড়ে দেয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন টেম্পু, ভটভটি, নছিমন ও ট্রলিচালক জানান, তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রতি মাসে হাইওয়ে থানা-পুলিশ ৩০০ টাকা করে আদায় করছে। মাস শেষে পুলিশের ক্যাসিয়ার আলাউদ্দিন এসে টাকা নিয়ে যায়। এ ছাড়া পুলিশ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে চেক পোস্ট বসিয়ে যানবাহন চালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, মহাসড়কে সংঘটিত দুর্ঘটনার বাইরে আমাদের কোন কিছু দেখার এখতিয়ার নেই।
