সাতক্ষীরার গণকবর সংরক্ষণ করা হয়নি

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৩৪
পাক-হানাদার বাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে সাতক্ষীরা শহরের আমতলা মোড়ের টাউন হাইস্কুল ভবন (বর্তমান সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়)। এখানে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়েছিল প্রায় ৩০০ শরণার্থী নারী-শিশু ও পুরুষ। ভারতে যাওয়ার পথে রাতে সামান্য সময়ের জন্য স্কুল বিল্ডিংয়ে আশ্রয় নেয়া এসব নিরীহ মানুষ একেবারেই বুঝে উঠতে পারেনি যে পাকসেনাদের হামলায় এখানেই তাদের প্রাণপ্রদীপ নিভে যাবে। ঠাঁই হবে স্কুলের পিছনে একটি গণকবরে। পাক-হানাদার বাহিনীর এই নির্মম হত্যাযজ্ঞের একজন প্রত্যক্ষদর্শী শহরের পলাশপোল এলাকার মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান জানান, সন্ধ্যায় টাউন হাইস্কুলের পাশে একটি চায়ের দোকানে বসেছিলাম। পাকআর্মির গাড়ি স্কুল ঘিরে ফেলতে দেখে সেখান থেকে উঠে স্কুলের পশ্চিম পাশে মাঠের কোণায় গিয়ে দাঁড়াই। কিছুক্ষণ পরে শুতে পেলাম মানুষের চিত্কার, চেঁচামেচি ও কান্নার শব্দ। স্কুলে আশ্রয় নেয়া প্রায় ৩০০ শরণার্থীকে খুঁচিয়ে ও ছুরি দিয়ে জবাই করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। বাচ্চাগুলোকে হত্যার পর দীনেশ কর্মকারের পুকুরে ফেলে দিচ্ছিল তারা। রক্তে উঠানের মাটি ভিজে গেছে। স্কুলের নিচতলা ও দোতলা পুরোটাই রক্তে ভেজা। মানুষের রক্ত গড়িয়ে স্কুলের সামনের মাঠে গিয়ে পড়েছে। সাতক্ষীরা জেলা ইউনিট কমান্ডের সভাপতি এনামুল হক বিশ্বাস জানান, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সাতক্ষীরার বড় গণহত্যার ঘটনাটি ঘটেছিল তত্কালীন টাউন হাইস্কুলে। এখানে ভারতগামী প্রায় ৩০০ বাঙালী শরণার্থীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মাটি চাপা দেয়া হয় স্কুলের পিছনে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর গণকবরটির কথা ভূলে যায় সবাই। আজও সেটি সংরক্ষণ করার কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। গণকবরের একাংশে বর্তমান সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের ল্যাট্রিনের সেফটিক ট্যাংক নির্মাণ করা হয়েছে।