‘আমার নামে কোনো কাটটাট নাই বাবা। মেম্বাররা আমগর নাম নেয় না। আইতে জারে ঘুমাবার পারি না। ভাঙ্গা ঘরে ঠাণ্ডা বাতাসে জীবনটা যায় যায়। এডা কম্বল পাইলে বুড়া বয়সে গায় দিতাম।’ কথাগুলো বলছিলেন রাজীবপুর উপজেলার মদনেরচরের মানিকজান বেওয়া (৭৫)। এখানে মানিকজানের মতো আরো অসংখ্য দুস্থ স্বামীহারা বৃদ্ধা গরম কাপড়ের অভাবে কষ্ট করছে।
ওই বৃদ্ধার স্বামী রহমত আলী ১৫ বছর আগে মারা গেছে। তাদের একমাত্র ছেলে জয়নাল হক কামলা দিয়া খায়। পরপর নদী ভাঙ্গনের ফলে ভিটেমাটি হারিয়েছেন। এখন বসবাস করছেন অন্যের জমিতে। মানিকজান বেওয়া আরো বলেন, ‘আমার স্বামী আছিল এক পাগল। হ্যার কালানোও কষ্ট করছি। এহন বুড়া বয়সে কষ্ট করা নাগে। পোলাডাও ভাত দিবার চায় না। গ্রামের হগলেই কাট পায়, আমি পাই না। মেম্বারের কাছে গেছিলাম। নাম নেহি নিছে। কিন্তু মেলা দিন গেল কোনোকিছুই নাই। এডা কম্বলের জন্য চেয়ারম্যানের কাছে যাবার নাগছি।’
মদনেরচর গ্রামের ইউপি মেম্বার জিয়াউল ইসলাম বলেন, ‘আমার গ্রামে দুঃস্থ ও দরিদ্র মানুষ দুইশোর মতো। সেখানে মাত্র ৩টা কম্বল ভাগে পাইছি। কাকে ছেড়ে কাকে দেই। এজন্য আমার দোষ দেয় সবাই।’
বর্তমানের শৈত্যপ্রবাহে ও হিমেল বাতাসে ব্রহ্মপুত্র চরের দুঃস্থ দিনমজুর মানুষের সীমাহীন কষ্ট হচ্ছে। কাছ থেকে না দেখলে বোঝা যাবে না তাদের অমানবিক জীবনযাপনের চিত্র। অনেকে বস্তার চট গায়ে দিয়েও ঠাণ্ডা মোকাবিলা করছে। অনেকে আবার খড়কুটোর মধ্যে কাঁথা গায়ে দিয়ে রাত কাটাচ্ছে। মেম্বারপাড়া গ্রামের স্বামীহারা সাইবানী বেগম (৮০) বলেন, ‘আমার এডা খেতাই সম্বল। এডা খেতায় জারে মানে না।’
