রফতানি অর্থনীতিতে ভাটির টান

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৫৩
দেশের অর্থনীতির আয়ের বড় একটা অংশ রফতানির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসে। একক দেশ হিসাবে হিমায়িত এবং তৈরি পোশাকের বড় বাজারই যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু খারাপ খবরটি হলো যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাকের বাজার সমপ্রসারিত হলেও হিমায়িত খাদ্য রফতানির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। আমাদের হিমায়িত খাদ্যের মধ্যে চিংড়ি রফতানি আয় উল্লেখযোগ্য। সার্বিক অর্থনীতির বিচারে পণ্যের রফতানি কীভাবে বাড়ানো যায় তার জন্য নিতে হবে পরিকল্পিত ব্যবস্থা। কেন আমাদের হিমায়িত পণ্য এবং পাট ও পাটজাত দ্রব্যের রফতানির পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে সে কারণ আগে খুঁজে বের করতে হবে। রফতানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে বাজার সমপ্রসারণ করার উদ্যোগই হতে পারে এ খাতগুলোর ভবিষ্যত্ সফলতা। কিন্তু তা কি আমাদের যাঁরা নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে রয়েছেন তাঁরা ভেবে দেখছেন? ২০১১-১২ অর্থবছরে বাংলাদেশের রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ৩১০ কোটি টাকা। ২০১০-২০১১ অর্থবছরের তুলনায় রফতানির পরিমাণ বেশ কিছুটা বেড়েছে। এ সময় রফতানির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৭ কোটি টাকা। ২০১১-১২ অর্থবছরে তৈরি পোশাক, পাটজাতদ্রব্য, মাছ, চিংড়ি, চামড়া ও চামড়াজাতদ্রব্য, কাঁচা পাট, ফার্নেস তেল, সার, হস্তশিল্প ও চায়ের রফতানি ছিল উল্লে¬খযোগ্য পরিমাণ। আর যেসব দেশে এসব পণ্য রফতানি হয়েছে এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে— যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, কানাডা, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, ভারত ও তুরস্ক। গত তিন বছরের রফতানির চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০৯-১০ অর্থবছরে তৈরি পোশাকের রফতানির পরিমাণ ছিল মোট রফতানির ৭৭ দশমিক ১ শতাংশ, সেখানে ২০১১-১২ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে মোট রফতানির ৭৮ দশমিক ৪ শতাংশ। গত তিন বছরে হিমায়িত খাদ্য রফতানির পরিমাণ কিছুটা কম । ২০০৯-১০ অর্থবছরে এই খাতে রফতানির পরিমাণ ছিল মোট রফতানির ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০১১-১২ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ১ শতাংশ। পাটজাত দ্রব্যের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। ২০০৯-১০ অর্থবছরে এই খাতে রফতানির পরিমাণ ছিল মোট রফতানির ৪ দশমিক ২ শতাংশ। ২০১১-১২ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্যের রফতানির পরিমাণ গত তিন বছরে খুব একটা হেরফের হয়নি। রফতানি কমেছে চা, হস্তশিল্প ও সারের। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০১১-১২ অর্থবছরে সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল। যার পরিমাণ ৩০ হাজার কোটি টাকা। যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি পণ্য রফতানি হচ্ছে তৈরি পোশাক। এর পাশাপাশি রয়েছে মাছ, চিংড়ি, পাটজাত দ্রব্য, চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্য, কাঁচা পাট এবং হস্তশিল্প। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরেই রয়েছে জার্মানি। দ্বিতীয় ক্রেতা হিসেবে জার্মান এখন রফতানিকারকদের কাছে সুপরিচিত। ২০১১-১২ অর্থবছরে জার্মানিতে রফতানি হয়েছে ২৫ হাজার ৯৫ কোটি টাকা। অবশ্য এর আগের বছরের তুলনায় রফতানির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেড়েছে। পরবর্তী দেশগুলো হচ্ছে যুক্তরাজ্য। যুক্তরাজ্যে ২০১১-১২ অর্থবছরে রফতানি হয়েছে ১৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। এখানে তৈরি পোশাকশিল্প গুরুত্ব পেয়েছে। জানা গেছে, ফ্রান্স ২০১১-১২ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে পণ্য কিনেছে ১০ হাজার ১৭২ কোটি টাকার। গত তিন বছরের তুলনায় ২০১১-১২ অর্থবছরে রফতানি কমে গেছে। এছাড়াও স্পেন, ইতালি, কানাডা, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, ভারত ও তুরস্ক থেকে সন্তোষজনক পর্যায়ে রফতানির অর্ডার এসেছে। রফতানির ধরন অনুযায়ী এখনও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো ক্রেতা হিসেবে শীর্ষে অবস্থান করছে। এরপরে রয়েছে নাফটা অন্তর্ভুক্ত দেশ। এর পাশাপাশি ওআইসিভুক্ত ও এশিয়ার দেশগুলো ক্রেতা হিসেবে সন্তোষজনক পর্যায়ে অবস্থান করছে। তবে চলতি অর্থবছরে বেশকিছু পণ্যের রফতানি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কিছুটা কমেছে। তাই সার্বিক রফতানির জন্য সরকারকে বড় ধরনের পদক্ষেপ নেয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। পরিকল্পিত রফতানির বাণিজ্যই পারে পড়ে যাওয়া খাতগুলোকে চাঙ্গা করতে। নারায়ণগঞ্জ