উপজাতীয় কোটায় নিয়োগপ্রাপ্ত কনস্টেবল থেকে এসআই পর্যন্ত সকল পুলিশকে তিন পার্বত্য জেলায় নিয়োগ করা হবে। ওসি বা পরিদর্শক পর্যায়ে উপজাতীয় পাওয়া গেলে তাদের এ তিন জেলায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পার্বত্য এলাকায় নিয়োজিত বাঙালি পুলিশকে পর্যায়ক্রমে ওই এলাকা থেকে প্রত্যাহার করা হবে। তবে পুলিশকে সম্পূর্ণরূপে পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীনে দেয়ার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
গত ১৯ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক আন্ত:মন্ত্রণালয় সভায় আগামী ৩১ জানুয়ারির সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা সকল প্রতিষ্ঠানকে তিন পার্বত্য জেলার অধীনে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব শেখ মোহাম্মদ ওয়াহেদুজ্জামান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আব্দুস সোবহান সিকদার, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী, তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খোন্দকার মাইন উদ্দিন, স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম-সচিব আকরাম-উজ-জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সভায় পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের পথে বাধাসমূহ চিহ্নিত করে দ্রুত তা দূর করার সিদ্ধান্ত হয়। খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান- এই তিন পার্বত্য জেলায় অবস্থিত সরকারের অধীনে থাকা সকল সরকারি প্রতিষ্ঠান পার্বত্য জেলা পরিষদে হস্তান্তর পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীনে ২৩টি, বান্দরবানের অধীনে ২১টি এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীনে ২২টি প্রতিষ্ঠান এ পর্যন্ত হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রতিটি জেলা পরিষদের অধীনে মোট ৩৩টি প্রতিষ্ঠান হস্তান্তরের কথা। পার্বত্য জেলা পরিষদের আইনের ২২ ও ২৩ ধারার ক এবং খ তফসিলে এসব প্রতিষ্ঠান হস্তান্তরের বিধান রয়েছে। এরমধ্যে তফসিলের প্রথম ক্রমিকে থাকা পুলিশের বিষয়টি এখনো সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন হয়নি। ভূমির অধিকারের প্রশ্নটিও ঝুলে আছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ইত্তেফাককে বলেন, পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীনে পুলিশের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে যৌথ সভা করে ঠিক করা হবে। ইতিমধ্যে পার্বত্য এলাকায় বাঙালি পুলিশের সঙ্গে উপজাতি পুলিশ নিয়োগ দিয়ে মিক্সিং পুলিশিং পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। তিনি জানান, এসআই বা উপ-পুলিশ পরিদর্শক থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত উপজাতি পুলিশকে পার্বত্য জেলায় নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরিদর্শক পর্যায়ে কর্মকর্তা পাওয়া গেলে তাও নিয়োগ দেয়া হবে। তিনি জানান, পার্বত্য জেলা পরিষদের চাহিদা অনুযায়ী নিয়োগযোগ্য পুলিশের সংখ্যা ঠিক করা হবে। প্রসঙ্গত, এখন শতকরা পাঁচভাগ নিয়োগ উপজাতি কোটায় হয়ে থাকে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের হস্তান্তর প্রশ্নে আলোচ্য সভায় দ্বি-মত পোষণ করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম-সচিব। তিনি বলেন, আইন বা চুক্তির কোথাও এই প্রতিষ্ঠানকে পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীনে হস্তান্তরের বিধান রাখা হয়নি।
তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে যেসব দফতর ও সংস্থা হস্তান্তরের কথা সেগুলো হচ্ছে: পুলিশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও বন, প্রাণী সম্পদ পালন, মত্স্য উন্নয়ন, সমবায় উন্নয়ন, সমাজকল্যাণ, ভূমি, সংস্কৃতি, সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সংরক্ষিত নয় এমন বিষয়, মহাজনি কারবার, জুম চাষ ইত্যাদি।
