উখিয়ায় ৪ হাজার হেক্টর ফসলি জমি অনাবাদি

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১৫
খাল দখল করে অবৈধ স্থাপনা তৈরি ও যত্রতত্র বালি উত্তোলনের ফলে উখিয়ার খালগুলো এখন মৃতপ্রায়। ফলে প্রতি শুষ্ক মৌসুমেই পানি সংকটের কারণে উপজেলার প্রায় ৪ হাজার হেক্টর ফসলি জমি অনাবাদি থেকে যাচ্ছে। তাই অবিলম্বে খালগুলো দখলমুক্ত করে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা কৃষি অফিসার জানান, পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য বিগত শুষ্ক মৌসুমে খাল খনন কার্যক্রম শুরু হলেও তা যথাযথভাবে শেষ করা যায়নি। এ কারণে উপজেলার অধিকাংশ আবাদী জমিতে শুষ্ক মৌসুমে চাষাবাদ করা যায় না। এলাকাবাসী জানান, একযুগ আগেও উপজেলার পালংখালী খালের জোয়ার ভাটার পানির মাধ্যমে কয়েক হাজার একর জমিতে তিনটি ফসল চাষাবাদ করা হতো। কিন্তু কালের আবর্তে সেটি বর্তমানে মরা খালে পরিণত হয়েছে। পালংখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক আবুল মনজুর চৌধুরী জানান, খালটি দখল করে অবৈধ দোকান পাটসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। ফলে খাল দিয়ে বর্ষাকালে পানি প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়ে বন্যার সৃষ্টি করে। একই কারণে শুষ্ক মৌসুমে খালে পানিশূন্যতার কারণে অনেক জমিই অনাবাদি থেকে যায়। স্থানীয় কৃষক সোলাইমান মেম্বার জানান, খালটি অবৈধ দখলমুক্ত করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেও কোন কাজ হয়নি। জানা গেছে, এ উপজেলার জোয়ারভাটা খালসহ আরো ৭টি খাল বর্তমানে নাব্যতা হারিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে। বিগত শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের আওতায় খালগুলো খনন কার্যক্রম শুরু করা হলেও তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। দায়সারা ভাবে খনন কাজ সম্পন্ন করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত্ করারও অভিযোগ উঠে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর তারা এ উপজেলা থেকে খাল খনন কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়। উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ কর্মকর্তা ইউসুফ ভূঁঞা বলেন, এ উপজেলায় ১০ হাজার ৩শ’ হেক্টর চাষাবাদ উপযোগী জমি রয়েছে। চলতি মৌসুমে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ও ১ হাজার হেক্টর জমিতে শাকসবজি চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও পানি সমস্যার কারণে কমপক্ষে ৪ হাজার ৩শ’ হেক্টর জমি অনাবাদি থেকে যাবে।