চকরিয়ায় আমনের বাম্পার ফলন

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১৫
কক্সবাজারের চকরিয়ায় ২০১২ সালে কৃষিখাতে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। উপজেলার আঠার ইউনিয়ন ও এক পৌরসভায় ৪৭ হাজার একর জমিতে হয়েছে আমনের বাম্পার ফলন। ফলন বিপ্লবের মাধ্যমে কৃষকরা এ বছর গোলায় তুলেছে প্রায় ২৩০কোটি টাকার ধান। উপজেলা কৃষি বিভাগ কয়েকদফা বন্যার কারণে এ বছর আমন আবাদে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে অতিরিক্ত চাষবাদ করতে পারেনি। তবে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার জমিতে চাষাবাদ করে গতবছরের চেয়ে এবছর প্রায় ২০ কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত খাদ্যশস্য উত্পাদন করতে সক্ষম হয়েছে। ফলন ভাল হওয়ায় কৃষকরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার আগাম আনন্দে তাদের মুখে ফুটেছে হাসির ঝিলিক। উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কর্মকর্তা (উন্নয়ন) জুগেষ চন্দ্র দাস জানান, উপজেলার ১৮ ইউনিয়ন ও এক পৌরসভা এলাকায় ১৮ হাজার ৯শ’ হেক্টর জমিতে ২০১২ সালে আমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। চলতি বছরের আগষ্ট-সেপ্টেম্বর মাসে কৃষকরা জমিতে শুরু করে আমনের চাষাবাদ। জুন-জুলাই মাসে কয়েকদফা বন্যার কারণে জমিতে জলাবদ্ধতা থাকায় এ বছর চাষ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী জমিতে। তবে এ বছর ফলন বেড়েছে গতবছরের চেয়ে বেশি। উপজেলা কৃষি অফিসার মো: আতিকউল্লাহ জানান, উপজেলায় কৃষকরা এ বছর জমিতে ১৫ জাতের ধান চারা রোপণ করেছেন। তারমধ্যে উফশী জাতের বি-আর দশ, এগার, বাইশ, তেইশ, বিধান-ত্রিশ, একত্রিশ, বত্রিশ, তেত্রিশ, উনচল্লিশ, চল্লিশ, একচল্লিশ, বিনা-সাত ও হরিধান এবং স্থানীয় নাজীর শাইল, লেম্বুরা, বিন্ডি নামক জাতের ধান রোপণ করে তারা আশাতীত সাফল্য পেয়েছে। তিনি আরো জানান, কৃষি বিভাগ প্রতি হেক্টর জমিতে ৪ দশমিক ৩/৫ মেট্রিক টন ধান উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও এ বছর কৃষকরা এর বিপরীতে ফলন পেয়েছেন ৪ দশমিক ৪/৪ ও ৪/৫ মেট্রিক টন। চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বাম্পার ফলনের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, সরকার কৃষকদের মাঝে কম দামে সার, বিনামূল্যে চারা সরবরাহ করেছে, ডিজেল ভর্তুকির টাকা দিয়েছে। এসবের পরও প্রত্যেক ব্লকে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের তদারকি এবং কৃষি বিভাগের সঠিক দিক-নির্দেশনায় চাষাবাদ করে কৃষকরা আশাতীত এ সাফল্য পেয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগের পরিসংখ্যান মতে, ৪৬ হাজার ৮৮০ একর জমিতে চাষাবাদ করে এ বছর কৃষকরা প্রায় ৬৫ হাজার ৫২০ মেট্রিক টন ধান উত্পাদন করতে সক্ষম হয়েছেন। স্থানীয় রাইচ মিল ও ধান ব্যবসায়ীদের হিসেব মতে, বর্তমানে প্রতি টন ধান খোলা বাজারে ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। এ হিসেবে ৬৫ হাজার ৫২০ মেট্রিক টন ধানের আনুমানিক মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২৩০ কোটি টাকা। উপজেলা কৃষি বর্গা চাষি সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন পুতু জানান, এ বছর আমনের বাম্পার ফলনে শীতের হিমেল হাওয়ায় উপজেলার প্রত্যন্ত জনপদে শুরু হয়েছে নবান্নের উত্সব।