শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকার আয়োজনে ‘মেজবান ও মিলনমেলা’ গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিবারের মতো বিপুল উত্সাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে ধানমন্ডির সুলতানা কামাল ক্রীড়া কমপ্লেক্স ঢাকাস্থ চট্টগ্রামের অধিবাসিদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। অতিথি আপ্যায়নে চট্টগ্রামবাসীদের ঐতিহ্য ‘মেজবান’। দিনভর আপ্যায়ন, সংবর্ধনা, কৃতি সন্তানদের স্মৃতিচারণ ও আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মেজবান হয়ে উঠে প্রাণবন্ত। ভিন্ন রাজনৈতিক দল, ভিন্ন ধর্মের অনুসারি হলেও ক্রীড়া কমপ্লেক্সের মাঠে সকলেই মেতে উঠেন চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা ও নিজস্ব স্বকীয়তায়। মেজবান উপলক্ষে চট্টগ্রামবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী নেতা বেগম খালেদা জিয়া।
মেজবানে অংশগ্রহণ করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আফসারুল আমিন, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান, সাবেক বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মীর নাসির উদ্দিন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদসহ কলকাতা, কাতারে চট্টগ্রাম সমিতির প্রতিনিধিসহ আরো অনেকে।
মেজবানে অংশ নিয়ে জাতীয় উন্নয়নের স্বার্থে চট্টগ্রামের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে ঐকমত্য ব্যক্ত করেছেন সরকার ও বিরোধী দলীয় নেতারা। চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাকের সভাপতিত্বে ও সম্পাদক মহিউল ইসলাম মহিমের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বৃহত্তর চট্টগ্রামের রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা দেশের অর্থনীতির সুতিকাগার চট্টগ্রামের দিকে সুদৃষ্টি দিতে সরকরের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, সারাদেশেই সমান দৃষ্টিতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে সরকার। মেজবানে অনেকবার অংশ নিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে কোন জেলার উদ্যোগে এমন ব্যাপক আয়োজনে মিলনমেলা হয় না।
শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, মীরসরাই ও আনোয়ারায় দুটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করা হচ্ছে। এ কাজ যত দ্রুত বাস্তবায়ন হবে জেলার উন্নয়নও তত ত্বরান্বিত হবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ডা. আফসারুল আমিন বলেন, উন্নয়নের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সরকারের অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাই চট্টগ্রামের সন্তান, তাই তাদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে একটি আম্ব্রেলা প্রজেক্ট রয়েছে। সরকার এতে বরাদ্দ দিলে চট্টগ্রামের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। যা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে। রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে দ্বিমত থাকার পরও চট্টগ্রামের উন্নয়নে আমরা এক ও ঐক্যবদ্ধ।
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি বলেন, চট্টগ্রামের সমস্যা অপরিসীম, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সরকারের সুদৃষ্টি জরুরি। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মীর নাসির উদ্দিন বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনৈক্যের কারণে যুগের পর যুগ চট্টগ্রামের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হচ্ছে না। চট্টগ্রাম বন্দর এবং বিমান বন্দর নিয়ে কোন দলেরই রাজনীতি করা উচিত নয়। তিনি বলেন, একটি বিশেষজ্ঞ দলের নেতৃত্বে একটি মহাপরিকল্পনা করতে হবে। এ জন্য চট্টগ্রাম সমিতিকে অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে হবে।
জাসদের কার্যকরি সভাপতি মঈনউদ্দিন খান বাদল এমপি বলেন, এ মুহূর্তে পদ্মা সেতুর চেয়ে জরুরি হচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। রাজধানীর সঙ্গে বন্দরনগরীর যোগাযোগ সহজ হলে প্রতিদিন সাশ্রয় হবে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল। যা জাতীয় অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখবে।
নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক বলেন, হাটহাজারির পরিত্যক্ত বিমানবন্দরের অধিভুক্ত জায়গায় একটি নতুন ইপিজেড গড়ে তোলা যায়। তিনি চট্টগ্রাম সমিতির প্রস্তাবিত হাসপাতালের জমি বরাদ্দ দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
কলকাতায় চট্টগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সরোজ রঞ্জন চৌধুরী বলেন, দুই দেশের মৈত্রীর বন্ধন দৃঢ় করতে দু’দেশেরই উন্নয়ন দরকার। আমরা ভারত সরকারকে বলেছি—তিস্তা চুক্তি করতে হবে। না হলে দু’দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দৃঢ় হবে না। এছাড়াও সাবেক মন্ত্রী কামরুন্নাহার জাফর, চট্টগ্রাম সমিতির সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম খান, আবু আলম চৌধুরী, লায়লা সিদ্দিকী, সাবেক সম্পাদক সৈয়দ নুরুল ইসলাম, কলকাতায় চট্টগ্রাম পরিষদের সভাপতি নিরঞ্জন দাশ ও কাতার চট্টগ্রাম সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক নুর মোহাম্মদ বক্তব্য রাখেন।
এর আগে সকাল ১০টায় বেলুন উড়িয়ে মেজবানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন মেজবান উপ-পরিষদের আহ্বায়ক মুহাম্মদ মারুফ শাহ চৌধুরী ও সদস্য সচিব আবদুল মাবুদ।
